Dhaka ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রামগড়ে পালিত হলো বিশ্ব আদিবাসী দিবস – আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে পা মেলেন ভারতী ঘোষ শিবির ও জামায়াত নেতার কবর জিয়ারতে কাঁদলেন ডা. শফিকুর রহমান মিয়ারচর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে বাদাঘাট বাজারে মানববন্ধন সাপাহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় সভা নরসিংদী আমদিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে নির্যাতন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলো যুবদল নেতা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের দৌড়ে রিজভীসহ আলোচনায় যারা তথ্যমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইলিশ-রসমালাইয়ে বরিশালের স্বাদ বাবার নিখোঁজের ১৩ বছর পর এসএসসি পাস, সাদমানকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কুড়িগ্রামে ৮ শতক জমির বিরোধে সহিদুলকে হত্যা, সাঁরাশি অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ Time View

মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে এক বছর আগে। ভবনের ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল, বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। কোথাও কোথাও ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের থাকতে হচ্ছে আতঙ্কের মধ্যে।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭৫ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫০ বছর। সেই হিসাবে ২০২৫ সালেই ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরোনো এ ভবনেই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। কয়েকটি অংশের পলেস্তারা খুলে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব অংশের নিচ দিয়েই রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সজিব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার মাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবনের ছাদের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হচ্ছি। কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত এটির সংস্কার করা দরকার।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ‘ভবনটি অনেক পুরোনো। সংস্কারের কাজ চলছে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নতুন ভবনের কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘হাসপাতালের ভবনটি ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে ভবনটি পরিদর্শন করিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছর থেকে ভবনটির রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে, যাতে কোনোভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়। রাজশাহী থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, দুটি জায়গায় সমস্যা বেশি হয়েছে। সেখানে শুধু প্লাস্টার করলে তা টেকসই হবে না। এ জন্য কেমিক্যাল রং দিয়ে কাজ করতে হবে, আপাতত কাজ চালানোর জন্য।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের হাতে সাইকেল, নারীদের সেলাই মেশিন, অসচ্ছলদের ভ্যান উপহার

নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাজ চলছে। মাননীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে তৎপর আছেন। এখানে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।#

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রামগড়ে পালিত হলো বিশ্ব আদিবাসী দিবস – আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে পা মেলেন ভারতী ঘোষ

বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা

সময়: ০৯:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে এক বছর আগে। ভবনের ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল, বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। কোথাও কোথাও ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের থাকতে হচ্ছে আতঙ্কের মধ্যে।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭৫ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫০ বছর। সেই হিসাবে ২০২৫ সালেই ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরোনো এ ভবনেই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। কয়েকটি অংশের পলেস্তারা খুলে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব অংশের নিচ দিয়েই রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সজিব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার মাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবনের ছাদের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হচ্ছি। কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত এটির সংস্কার করা দরকার।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ‘ভবনটি অনেক পুরোনো। সংস্কারের কাজ চলছে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নতুন ভবনের কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘হাসপাতালের ভবনটি ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে ভবনটি পরিদর্শন করিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছর থেকে ভবনটির রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে, যাতে কোনোভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়। রাজশাহী থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, দুটি জায়গায় সমস্যা বেশি হয়েছে। সেখানে শুধু প্লাস্টার করলে তা টেকসই হবে না। এ জন্য কেমিক্যাল রং দিয়ে কাজ করতে হবে, আপাতত কাজ চালানোর জন্য।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের হাতে সাইকেল, নারীদের সেলাই মেশিন, অসচ্ছলদের ভ্যান উপহার

নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাজ চলছে। মাননীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে তৎপর আছেন। এখানে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।#