Dhaka ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ভাঙ্গুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাড়ে ৫লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস ১৫ বছরে রেলপথে ১ হাজার ৩৩৪ দুর্ঘটনা, সংসদে জানালেন রেলমন্ত্রী বুড়িচংয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার, গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১৬ হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের আয়োজনে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত- হাড়দ্দহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন,আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সভাপতি,ইমরান সহ-সভাপতি,মোঃআঃ সবুর সদস্য সচিব নির্বাচিত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার তালিকা রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছিল, নির্ভুল তালিকা তৈরির কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরে বালু লুট সম্পত্তি দখল চেষ্টা ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী ধর্মপাশা থানার এসআই শরীফুল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ১২১ Time View

 

মোঃ আঃ মান্নান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি


লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় পথ হারিয়ে মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রিসে নেওয়ার সময় নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে অসুস্থ হয়ে একে একে মারা যান অনেকে। পরে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রিসে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি যুবক জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেশটির একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—
দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), তায়েক মিয়া ও সোহাস;
দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম;
জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী।

এদিকে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে শায়েক আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাঁর বাবা আখলুছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে না খাইয়ে মেরে ফেলেছে। আমি দালালের বিচার চাই।”

পরিবারের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছিল। গত মাসে বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে একই নৌকায় থাকা এক আত্মীয় ফোনে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুনঃ  বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিরাই উপজেলার একাধিক পরিবারে একই সঙ্গে শোক নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ ও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ভাঙ্গুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাড়ে ৫লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের

সময়: ০৭:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ আঃ মান্নান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি


লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় পথ হারিয়ে মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রিসে নেওয়ার সময় নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে অসুস্থ হয়ে একে একে মারা যান অনেকে। পরে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রিসে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি যুবক জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেশটির একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—
দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), তায়েক মিয়া ও সোহাস;
দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম;
জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী।

এদিকে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে শায়েক আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাঁর বাবা আখলুছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে না খাইয়ে মেরে ফেলেছে। আমি দালালের বিচার চাই।”

পরিবারের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছিল। গত মাসে বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে একই নৌকায় থাকা এক আত্মীয় ফোনে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ‘স্বাভাবিক’ ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম, শেষ ফোনালাপের স্মৃতিচারণ করলেন ট্রাম্

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিরাই উপজেলার একাধিক পরিবারে একই সঙ্গে শোক নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ ও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।