Dhaka ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের হাতে সাইকেল, নারীদের সেলাই মেশিন, অসচ্ছলদের ভ্যান উপহার কুদ্দুস মিয়ার বাড়ি থেকে লাখাধিক ভারতীয় বিড়ি উদ্ধার, মামলা হচ্ছে ড্রাম বাজিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক পারাপার, বীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঝিনাইদহে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের যুগান্তকারী সাফল্য তালতলীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ত্রাণ চাই না, নদী বাঁচাও, টিআরএম চালু করো” — ভবদহ বিল ও স্লুইস গেটে জীবনের দুর্ভোগ ভালুকার পরিত্যক্ত পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার চাঁদপুরে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের স্মারকলিপি প্রদান “ত্রিশালে যৌথ অভিযানে ২,২৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার” কালিয়াকৈরে ছিনতাইকারীর হাতে অটোরিস্কাচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ভাগ যেতো বিদেশে : পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমনের বিস্ফোরক তথ্য

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ Time View

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার


চট্টগ্রামে কি ভাঙছে চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক?

এক সময় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্কের আরেক নাম ছিল মোবারক হোসেন ইমন, ওরফে ডেভিড ইমন। অভিযোগ ছিল, একটি ফোনকলই যথেষ্ট ছিল আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে। বিদেশি নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপে আসত চাঁদার দাবি। টাকা না দিলে পরবর্তী ধাপ ছিল হামলা, গুলি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর।

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি রিমান্ডে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্বীকার করেছেন যে শুধু চাঁদাবাজি থেকেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থের ভাগও ছিল নির্ধারিত। প্রায় ৫০ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা, অস্ত্রধারী অনুসারীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। বাকি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা থাকত ডেভিড ইমনের নিয়ন্ত্রণে। তথ্যসূত্র যুগান্তর।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির কৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথমে ব্যবসায়ী, আবাসন উদ্যোক্তা কিংবা প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হতো। কেউ অস্বীকার করলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভয় সৃষ্টি করা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনেক ভুক্তভোগী প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ না করে নীরবে টাকা দিয়ে দিতেন।

এর আগেও ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার চাঁদা দাবি, টাকা না পেয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নতুন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে: জামায়াত আমির

বর্তমানে ফটিকছড়ির হত্যা ও অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে থাকা ডেভিড ইমনের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের লক্ষ্য শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করা নয়, বরং তার অর্থের উৎস, হুন্ডি নেটওয়ার্ক, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা।

তবে এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনাটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

যদি একজন অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে, তাহলে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কারা দিয়েছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং এত বড় নেটওয়ার্ক এতদিন টিকে ছিল কীভাবে?

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তখনই, যখন এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের অর্থের প্রবাহ, হুন্ডি চক্র, অস্ত্রের উৎস এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামের মানুষ এখন শুধু একজন সন্ত্রাসীর বিচার নয়, পুরো অপরাধচক্রের স্থায়ী অবসান দেখতে চায়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের হাতে সাইকেল, নারীদের সেলাই মেশিন, অসচ্ছলদের ভ্যান উপহার

মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ভাগ যেতো বিদেশে : পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমনের বিস্ফোরক তথ্য

সময়: ০৫:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার


চট্টগ্রামে কি ভাঙছে চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক?

এক সময় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্কের আরেক নাম ছিল মোবারক হোসেন ইমন, ওরফে ডেভিড ইমন। অভিযোগ ছিল, একটি ফোনকলই যথেষ্ট ছিল আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে। বিদেশি নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপে আসত চাঁদার দাবি। টাকা না দিলে পরবর্তী ধাপ ছিল হামলা, গুলি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর।

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি রিমান্ডে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্বীকার করেছেন যে শুধু চাঁদাবাজি থেকেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থের ভাগও ছিল নির্ধারিত। প্রায় ৫০ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা, অস্ত্রধারী অনুসারীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। বাকি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা থাকত ডেভিড ইমনের নিয়ন্ত্রণে। তথ্যসূত্র যুগান্তর।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির কৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথমে ব্যবসায়ী, আবাসন উদ্যোক্তা কিংবা প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হতো। কেউ অস্বীকার করলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভয় সৃষ্টি করা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনেক ভুক্তভোগী প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ না করে নীরবে টাকা দিয়ে দিতেন।

এর আগেও ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার চাঁদা দাবি, টাকা না পেয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউখালীতে ৭ ফুট উচ্চতার গাঁজার গাছসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বর্তমানে ফটিকছড়ির হত্যা ও অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে থাকা ডেভিড ইমনের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের লক্ষ্য শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করা নয়, বরং তার অর্থের উৎস, হুন্ডি নেটওয়ার্ক, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা।

তবে এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনাটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

যদি একজন অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে, তাহলে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কারা দিয়েছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং এত বড় নেটওয়ার্ক এতদিন টিকে ছিল কীভাবে?

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তখনই, যখন এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের অর্থের প্রবাহ, হুন্ডি চক্র, অস্ত্রের উৎস এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামের মানুষ এখন শুধু একজন সন্ত্রাসীর বিচার নয়, পুরো অপরাধচক্রের স্থায়ী অবসান দেখতে চায়।