
মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার
চট্টগ্রামে কি ভাঙছে চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক?
এক সময় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্কের আরেক নাম ছিল মোবারক হোসেন ইমন, ওরফে ডেভিড ইমন। অভিযোগ ছিল, একটি ফোনকলই যথেষ্ট ছিল আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে। বিদেশি নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপে আসত চাঁদার দাবি। টাকা না দিলে পরবর্তী ধাপ ছিল হামলা, গুলি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি রিমান্ডে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্বীকার করেছেন যে শুধু চাঁদাবাজি থেকেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থের ভাগও ছিল নির্ধারিত। প্রায় ৫০ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা, অস্ত্রধারী অনুসারীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। বাকি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা থাকত ডেভিড ইমনের নিয়ন্ত্রণে। তথ্যসূত্র যুগান্তর।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির কৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথমে ব্যবসায়ী, আবাসন উদ্যোক্তা কিংবা প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হতো। কেউ অস্বীকার করলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভয় সৃষ্টি করা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনেক ভুক্তভোগী প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ না করে নীরবে টাকা দিয়ে দিতেন।
এর আগেও ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার চাঁদা দাবি, টাকা না পেয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ফটিকছড়ির হত্যা ও অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে থাকা ডেভিড ইমনের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের লক্ষ্য শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করা নয়, বরং তার অর্থের উৎস, হুন্ডি নেটওয়ার্ক, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা।
তবে এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনাটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
যদি একজন অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে, তাহলে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কারা দিয়েছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং এত বড় নেটওয়ার্ক এতদিন টিকে ছিল কীভাবে?
ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তখনই, যখন এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের অর্থের প্রবাহ, হুন্ডি চক্র, অস্ত্রের উৎস এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামের মানুষ এখন শুধু একজন সন্ত্রাসীর বিচার নয়, পুরো অপরাধচক্রের স্থায়ী অবসান দেখতে চায়।
Reporter Name 
























