Dhaka ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দখল ও প্রকৃত সাংবাদিকদের বঞ্চনার শিকার

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:১৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি :  ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দখল ও প্রকৃত সাংবাদিকদের বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এখনো তারই ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রে বিধ্যমান রয়েছে। তারই দৃষ্টান্ত উদাহরণ ঢাকা জেলা সমাজ সেবা অফিস। যদিও সাংবাদিক সংগঠনকে সমাজ সেবা নিবন্ধন দেওয়ার কোন অধিকার নেই।

সাধারণভাবে “ঢাকা প্রেস ক্লাব” বা যেকোনো সাংবাদিক সংগঠন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সমাজসেবা নিবন্ধন নিতে পারে না, কারণ এটি পেশাজীবী (Professional) সংগঠন, সমাজকল্যাণমূলক (Social Welfare) সংগঠন নয়। The Voluntary Social Welfare Agencies (Registration and Control) Ordinance, 1961 (“স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১”) এই আইনের ধারা ২(ডি) অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধন পেতে হলে সংগঠনকে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম (welfare activities) — যেমন দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারী উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী সহায়তা ইত্যাদি — পরিচালনা করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাব বা সমিতি সাধারণত এসব কাজ করে না, বরং সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, সংবাদ প্রচার, অধিকার রক্ষা ইত্যাদি করে, যা সমাজকল্যাণমূলক কাজ নয়। বিষয়টি নিয়ে আমার একটু বলার উদ্দেশ্য এই ক্লাবটি নিয়ে সমাজ সেবা অফিস ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় পরিলালনা করছে এবং একটি গ্রুপকে সকল সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে — শুধু বিগত পরিচালনাগুলি সরকারের তাবেদারিত্ব করার কারণে। যে জন্য এখনো প্রকৃত সাংবাদিকরা সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে।

সমাজ সেবার নিবন্ধন দেওয়ার অধিকার না থাকার সত্ত্বেও ১৯৮৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা প্রেস ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়, যার নিবন্ধন নম্বর ঢ-০২০২৯। আবারও ফ্যাসিবাদীদের দখলে পড়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন ঢাকা প্রেস ক্লাব। গত ১৫-১০-২০২৫ ইং তারিখে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের দোসর দীপঙ্কর গৌতম ও পাভেল গ্রুপকে ঢাকা জেলা সমাজসেবা থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেটা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সাংবাদিক মহল।

বিগত দিনে সমাজ সেবার নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থেকে প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় ঢাকা প্রেস ক্লাব দখল করে রেখেছে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী কিছু ব্যক্তি। তাদের দখলদারিত্বের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা সংগঠনের কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক

১৯৮৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা প্রেস ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়, যার নিবন্ধন নম্বর ঢ-০২০২৯। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম দিলদার, যিনি বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন আয়োজন করে আসছিল এবং নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সরকারে যোগ দেন এবং সমাজ সেবার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হন। বর্তমানে তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৯ সালে তারই ঘনিষ্ঠ সহচর দীপঙ্কর গৌতম ও সাদেক মাহমুদ (পাভেল) সহ কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী ঢাকা প্রেস ক্লাব জোর করে দখল করে নেন। তারা সংগঠনের পুরনো নথি ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গায়েব করে দিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি অনুমোদন নেন। অথচ তারা কখনো ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য ছিলেন না।

২০০৯ সালের পর থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর কাগজে-কলমে কমিটি নবায়ন করলেও কোনো কার্যকর কর্মকাণ্ড তারা পরিচালনা করেননি। ২০০৯-২০১১, ২০১১-২০১৩, ২০১৩-২০১৫, ২০১৫-২০১৭, ২০১৯-২০২১, ২০২১-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৫ পর্যন্ত এই কমিটিগুলোর কার্যক্রম কেবল নথিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো সম্পৃক্ততা বা সাধারণ সদস্যদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ বিষয়ে সমাজ সেবার নিকট বহুবার আবেদন করেছে অনেক সাংবাদিক বা সদস্য। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিলেও, শেষ পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত ভেস্তে যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবারই রাশেদ খান মেননের সরাসরি হস্তক্ষেপে তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা বিগত প্রতিটি কমিটির সুপারিশ থেকে জানা যায়।

এই দীর্ঘ দখলদারিত্বের প্রতিবাদে আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে প্রকৃত সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে ওঠে ২০০৭ সালে। দুই শতাধিক পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক একত্রিত হয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাবকে পুনর্গঠন ও সাংবাদিকদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেশব্যাপী চলমান।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় টানা চতুর্থ দিন বাড়ল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে উক্ত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর অনেকেই পলাতক। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনের সময় তারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে। রাশেদ খান মেনন পালিয়ে যাওয়ার পর তার সহচর দীপঙ্কর গৌতম ও সাদেক মাহমুদসহ অনেকে আত্মগোপনে চলে যান এবং এখনো বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন, যে কারণে ঢাকা প্রেস ক্লাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এ বিষয়ে একাধিক সাংবাদিকের নিকট জানতে চাইলে তারা ফ্যাসিবাদী কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এবিষয়ে কেএম মোহম্মদ হোসেন রিজভী বলেন, “আমি একজন প্রবীণ সাংবাদিক, জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছি। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাথে যুক্ত রয়েছি। কিন্তু সমাজ সেবা আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বর্তমান ফ্যাসিবাদী কমিটির বিরুদ্ধে ২৬-১০-২০২৫ ইং তারিখে লিখিতভাবে সমাজ সেবা মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দাখিল করি। এর আগেও ২০-১০-২০২৫ ইং তারিখে জেলা সমাজ সেবা অফিসে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু বিষয়টি কোনভাবে আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।”

তার অভিযোগসমূহ হলো—
১. জোরপূর্বক প্রেসক্লাব দখল ও দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা এবং বারবার একই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কমিটি প্রদান।
২. কোনো নিয়মিত নির্বাচন না করা বা প্রকৃত সাংবাদিকদের সংযুক্ত না করা।
৩. কমিটির সকল সদস্য পূর্ববর্তী কোনো বৈধ কমিটির বা ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য না থাকা।
৪. সংগঠনের কার্যক্রম বা সভা-মিটিং সম্পূর্ণ অনুপস্থিত এবং সাংবাদিকদের বিপদে সাহায্য বা সহযোগিতা না করা।
৫. সমাজসেবার নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম না চালানো এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় লোক দিয়ে সদস্য কোট পূর্ণ করা।
৬. ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পুরনো কোনো নথি পাওয়া যায়নি — অর্থাৎ পূর্বের নথি গায়েব করা।
৭. সংগঠনটিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করা।

এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সাংবাদিক সমাজে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঢাকা প্রেস ক্লাব এখন ঐক্য ও সংস্কারের জন্য নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ, ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন

আমাদের দাবি — ঢাকা জেলা সমাজ সেবা উক্ত কমিটি বাতিল ঘোষণা করে ফ্যাসিবাদীদের এই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করুক। সকল সাংবাদিককে নিয়ে নতুন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা রক্ষার্থে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন কমিটি উপহার দিক।

প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বচ্ছ পদক্ষেপে যদি দখলদারদের অপসারণ নিশ্চিত করা যায়, তবে বহু বছরের বঞ্চনা ও বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাব আবারও সত্য, ন্যায় ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতীক হিসেবে ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাবের একটি গ্রুপের সভাপতি বলেন, “আমি ১৯৯০ সালে ঢাকা প্রেস ক্লাবে যুক্ত হই। ১৯৯৩ সালে স্থায়ী সদস্য পদ পাই। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর সব কিছু ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে এই ক্লাবটি চলে যায় দখলদারদের কবলে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৯ সাল থেকে দুই শতাধিক সম্পাদক ও ৫ শতাধিক প্রকৃত সাংবাদিক নিয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাব উদ্ধারের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই। এরপর দেশব্যাপী ঢাকা প্রেস ক্লাব প্রসারিত করি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক সাংবাদিক যুক্ত হয়েছেন। সমাজ সেবার নিবন্ধনের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। ওরা ঢাকা জেলার মধ্যে কাজ করে, আর আমরা দেশে ও বিদেশে কাজ করি।”

তিনি যোগ করেন, “আমার জানামতে সমাজ সেবা সাংবাদিক সংগঠনের নিবন্ধন দিতে পারে না। যে কারণে আমি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে দুই বছর পর পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করি এবং সাংবাদিকদের সকল বিপদে সভা-সমাবেশ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে ঢাকা প্রেস ক্লাব সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সমাজ সেবা যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমি তাদের সাথে রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই সংগঠনে একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে। আমি বলবো সমাজ সেবা সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন ফ্যাসিবাদীমুক্ত কমিটি উপহার দিক, অন্যথায় নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দখল ও প্রকৃত সাংবাদিকদের বঞ্চনার শিকার

সময়: ০৯:১৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি :  ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দখল ও প্রকৃত সাংবাদিকদের বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এখনো তারই ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রে বিধ্যমান রয়েছে। তারই দৃষ্টান্ত উদাহরণ ঢাকা জেলা সমাজ সেবা অফিস। যদিও সাংবাদিক সংগঠনকে সমাজ সেবা নিবন্ধন দেওয়ার কোন অধিকার নেই।

সাধারণভাবে “ঢাকা প্রেস ক্লাব” বা যেকোনো সাংবাদিক সংগঠন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সমাজসেবা নিবন্ধন নিতে পারে না, কারণ এটি পেশাজীবী (Professional) সংগঠন, সমাজকল্যাণমূলক (Social Welfare) সংগঠন নয়। The Voluntary Social Welfare Agencies (Registration and Control) Ordinance, 1961 (“স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১”) এই আইনের ধারা ২(ডি) অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধন পেতে হলে সংগঠনকে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম (welfare activities) — যেমন দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারী উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী সহায়তা ইত্যাদি — পরিচালনা করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাব বা সমিতি সাধারণত এসব কাজ করে না, বরং সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, সংবাদ প্রচার, অধিকার রক্ষা ইত্যাদি করে, যা সমাজকল্যাণমূলক কাজ নয়। বিষয়টি নিয়ে আমার একটু বলার উদ্দেশ্য এই ক্লাবটি নিয়ে সমাজ সেবা অফিস ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় পরিলালনা করছে এবং একটি গ্রুপকে সকল সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে — শুধু বিগত পরিচালনাগুলি সরকারের তাবেদারিত্ব করার কারণে। যে জন্য এখনো প্রকৃত সাংবাদিকরা সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে।

সমাজ সেবার নিবন্ধন দেওয়ার অধিকার না থাকার সত্ত্বেও ১৯৮৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা প্রেস ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়, যার নিবন্ধন নম্বর ঢ-০২০২৯। আবারও ফ্যাসিবাদীদের দখলে পড়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন ঢাকা প্রেস ক্লাব। গত ১৫-১০-২০২৫ ইং তারিখে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের দোসর দীপঙ্কর গৌতম ও পাভেল গ্রুপকে ঢাকা জেলা সমাজসেবা থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেটা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সাংবাদিক মহল।

বিগত দিনে সমাজ সেবার নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থেকে প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় ঢাকা প্রেস ক্লাব দখল করে রেখেছে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী কিছু ব্যক্তি। তাদের দখলদারিত্বের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা সংগঠনের কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের দাবি: মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত

১৯৮৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা প্রেস ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়, যার নিবন্ধন নম্বর ঢ-০২০২৯। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম দিলদার, যিনি বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন আয়োজন করে আসছিল এবং নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সরকারে যোগ দেন এবং সমাজ সেবার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হন। বর্তমানে তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৯ সালে তারই ঘনিষ্ঠ সহচর দীপঙ্কর গৌতম ও সাদেক মাহমুদ (পাভেল) সহ কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী ঢাকা প্রেস ক্লাব জোর করে দখল করে নেন। তারা সংগঠনের পুরনো নথি ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গায়েব করে দিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি অনুমোদন নেন। অথচ তারা কখনো ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য ছিলেন না।

২০০৯ সালের পর থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর কাগজে-কলমে কমিটি নবায়ন করলেও কোনো কার্যকর কর্মকাণ্ড তারা পরিচালনা করেননি। ২০০৯-২০১১, ২০১১-২০১৩, ২০১৩-২০১৫, ২০১৫-২০১৭, ২০১৯-২০২১, ২০২১-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৫ পর্যন্ত এই কমিটিগুলোর কার্যক্রম কেবল নথিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো সম্পৃক্ততা বা সাধারণ সদস্যদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ বিষয়ে সমাজ সেবার নিকট বহুবার আবেদন করেছে অনেক সাংবাদিক বা সদস্য। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিলেও, শেষ পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত ভেস্তে যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবারই রাশেদ খান মেননের সরাসরি হস্তক্ষেপে তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা বিগত প্রতিটি কমিটির সুপারিশ থেকে জানা যায়।

এই দীর্ঘ দখলদারিত্বের প্রতিবাদে আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে প্রকৃত সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে ওঠে ২০০৭ সালে। দুই শতাধিক পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক একত্রিত হয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাবকে পুনর্গঠন ও সাংবাদিকদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেশব্যাপী চলমান।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন

গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে উক্ত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর অনেকেই পলাতক। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনের সময় তারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে। রাশেদ খান মেনন পালিয়ে যাওয়ার পর তার সহচর দীপঙ্কর গৌতম ও সাদেক মাহমুদসহ অনেকে আত্মগোপনে চলে যান এবং এখনো বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন, যে কারণে ঢাকা প্রেস ক্লাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এ বিষয়ে একাধিক সাংবাদিকের নিকট জানতে চাইলে তারা ফ্যাসিবাদী কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এবিষয়ে কেএম মোহম্মদ হোসেন রিজভী বলেন, “আমি একজন প্রবীণ সাংবাদিক, জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছি। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাথে যুক্ত রয়েছি। কিন্তু সমাজ সেবা আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বর্তমান ফ্যাসিবাদী কমিটির বিরুদ্ধে ২৬-১০-২০২৫ ইং তারিখে লিখিতভাবে সমাজ সেবা মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দাখিল করি। এর আগেও ২০-১০-২০২৫ ইং তারিখে জেলা সমাজ সেবা অফিসে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু বিষয়টি কোনভাবে আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।”

তার অভিযোগসমূহ হলো—
১. জোরপূর্বক প্রেসক্লাব দখল ও দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা এবং বারবার একই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কমিটি প্রদান।
২. কোনো নিয়মিত নির্বাচন না করা বা প্রকৃত সাংবাদিকদের সংযুক্ত না করা।
৩. কমিটির সকল সদস্য পূর্ববর্তী কোনো বৈধ কমিটির বা ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য না থাকা।
৪. সংগঠনের কার্যক্রম বা সভা-মিটিং সম্পূর্ণ অনুপস্থিত এবং সাংবাদিকদের বিপদে সাহায্য বা সহযোগিতা না করা।
৫. সমাজসেবার নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম না চালানো এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় লোক দিয়ে সদস্য কোট পূর্ণ করা।
৬. ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পুরনো কোনো নথি পাওয়া যায়নি — অর্থাৎ পূর্বের নথি গায়েব করা।
৭. সংগঠনটিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করা।

এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সাংবাদিক সমাজে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঢাকা প্রেস ক্লাব এখন ঐক্য ও সংস্কারের জন্য নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুনঃ  বাউবিতে কাওমী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ

আমাদের দাবি — ঢাকা জেলা সমাজ সেবা উক্ত কমিটি বাতিল ঘোষণা করে ফ্যাসিবাদীদের এই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করুক। সকল সাংবাদিককে নিয়ে নতুন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা রক্ষার্থে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন কমিটি উপহার দিক।

প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বচ্ছ পদক্ষেপে যদি দখলদারদের অপসারণ নিশ্চিত করা যায়, তবে বহু বছরের বঞ্চনা ও বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাব আবারও সত্য, ন্যায় ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতীক হিসেবে ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাবের একটি গ্রুপের সভাপতি বলেন, “আমি ১৯৯০ সালে ঢাকা প্রেস ক্লাবে যুক্ত হই। ১৯৯৩ সালে স্থায়ী সদস্য পদ পাই। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর সব কিছু ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে এই ক্লাবটি চলে যায় দখলদারদের কবলে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৯ সাল থেকে দুই শতাধিক সম্পাদক ও ৫ শতাধিক প্রকৃত সাংবাদিক নিয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাব উদ্ধারের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই। এরপর দেশব্যাপী ঢাকা প্রেস ক্লাব প্রসারিত করি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক সাংবাদিক যুক্ত হয়েছেন। সমাজ সেবার নিবন্ধনের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। ওরা ঢাকা জেলার মধ্যে কাজ করে, আর আমরা দেশে ও বিদেশে কাজ করি।”

তিনি যোগ করেন, “আমার জানামতে সমাজ সেবা সাংবাদিক সংগঠনের নিবন্ধন দিতে পারে না। যে কারণে আমি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে দুই বছর পর পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করি এবং সাংবাদিকদের সকল বিপদে সভা-সমাবেশ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে ঢাকা প্রেস ক্লাব সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সমাজ সেবা যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমি তাদের সাথে রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই সংগঠনে একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে। আমি বলবো সমাজ সেবা সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন ফ্যাসিবাদীমুক্ত কমিটি উপহার দিক, অন্যথায় নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।”