আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা, স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আরও দৃঢ় হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আসিয়ানের ১১টি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য আবেদন করেছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ইতোমধ্যে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ ছাড়া পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিসহ আরও কয়েকটি খাতে সহযোগিতামূলক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা পেতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মিশনপ্রধানদের সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ান পরিবারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারলে বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক আরও অর্থবহ ও বহুমাত্রিক হবে।
অনুষ্ঠানে আসিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেটসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরতে জিআই পণ্য ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট এবং কালোজিরা চালের বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়।
Reporter Name 






















