এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দলীয় কার্যক্রম আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রোববার (৯ আগস্ট) রাতে নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
রাত সোয়া ৮টার দিকে শুরু হওয়া সভা চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সামগ্রিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি, মহানগর ও দুই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় তারেক রহমান চট্টগ্রামে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেন।
দলীয় কর্মকাণ্ড যেন শুধু কেন্দ্রীয় বা মহানগর পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংগঠনকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। সাংগঠনিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়।
সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংগঠনিক এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। কোথাও সংগঠনের কার্যক্রমে দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নেতাকর্মীদের নিজ নিজ সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
চট্টগ্রামে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারেক রহমান। এসব সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মূল দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামকে বিএনপির সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার চট্টগ্রামে আসেন তারেক রহমান। বিকেলে হেলিকপ্টারে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে পৌঁছান তিনি। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
হাটহাজারী কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবস্থাপনা এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নগরীর রেডিসন ব্লু থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার পথে যাত্রা করেন।
চট্টগ্রাম সফরের শেষ মুহূর্তের এই সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমানের মূল বার্তা ছিল—দলকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও তৃণমূলমুখী করে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনপির কার্যক্রম আরও বেগবান করা।
Reporter Name 























