Dhaka ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নার্সের ডেলিভারিতে নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০৬ Time View

মোঃসুলতান মাহমুদ ,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে নার্স দিয়ে প্রসূতির ডেলিভারী করার সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে আল রাজি নামক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার চান নবজাতকের বাবা-মাসহ স্বজনেরা।আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালের দিকে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নবজাতকের বাবা।

এর আগে, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা আল রাজি হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।মৃত নবজাতক উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আজুগিরচালা গ্রামের নাজমুল ইসলাম ও শারমিন আক্তার দম্পতির।

নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ১৩ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশন করার চুক্তি হয়। আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করে সময় পার করতে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় নার্স কল্পনা আক্তার নরমাল ডেলিভারির করার সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়।’

নবজাতকের মা শারমিন আক্তার বলেন,’ আমার ব্যাথা উঠলে ওই হাসপাতালে ভর্তি রাখার পর থেকে কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করে। এরপর নার্সেরা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। এক পর্যায়ে জরায়ুর মুখ কেটে মৃত নবজাতক বের করে।

ওই হাসপাতালের নার্স কল্পনা আক্তার বলেন, কয়েক বছর যাবৎ অপারেশন থিয়েটারে কাজ করা কারনে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় আমি নবজাতক ডেলিভারি করায়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতক কান্না না করায় অন্য একটি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান নবজাতক মারা গেছে।

আল রাজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) রাসেল মিয়া বলেন,’ এখানে কোনো চিকিৎসক ছিলো না। তাই, রোগী ভর্তি করতে নিষেধ করেছিলাম নার্স কল্পনাকে। আমাকে না জানিয়ে কখন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলো আমি জানি না।’

আরও পড়ুনঃ  জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,’ ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব হাসপাতালে কয়েকদিন পরপরই শিশুসহ রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ওইসব ঘটনা গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়। প্রশাসনও শক্ত কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অপরাধ বেড়েই চলছে। এসব ঘটনার মধ্যে একটির সঠিক বিচার হলে এমন অপরাধ হতো না।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,’ এ ঘটনা অবগত হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সিভিল সার্জন স্যারকে জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

হাসপাতালটির লাইসেন্স আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,’ আগে তারা সময় নিয়েছে। এখন কাগজপত্র কি আছে তা দেখানোর জন্য কয়েকদিন আগে চিঠি দিয়েছি।’শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, মৃত নবজাতককে নিয়ে তার বাবা-মা ও স্বজনেরা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন,’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়েই ঘটনা তদন্ত যাবে উপজেলা প্রশাসন। লাইসেন্সসহ আনুষাঙ্গিক বিষয় গুলো দেখে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান সাংবাদিককে বলেন,’ খবর পেয়ে সেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতিবেদনের পর সিভিল সার্জন অফিস থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই হাসপাতালে পাঠানো হবে। দুই স্তরের তদন্তের রিপোর্ট দেখে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসব ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে আলোর মুখ দেখে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন বলেন,’ এসব ঘটনার কিছুদিন পর বাদী বিবাদী মিলে যায়। যার ফলে আমাদের সাথে আর কেউ যোগাযোগ করেনা। তাই আমরা কার্যকর তেমন পদক্ষেপ নিতে পারিনা। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন কিছুই করার থাকে না।’

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমান: শিক্ষাজীবন থেকে জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্বে দীর্ঘ পথচলা
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

নার্সের ডেলিভারিতে নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

সময়: ০৬:০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃসুলতান মাহমুদ ,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে নার্স দিয়ে প্রসূতির ডেলিভারী করার সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে আল রাজি নামক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার চান নবজাতকের বাবা-মাসহ স্বজনেরা।আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালের দিকে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নবজাতকের বাবা।

এর আগে, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা আল রাজি হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।মৃত নবজাতক উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আজুগিরচালা গ্রামের নাজমুল ইসলাম ও শারমিন আক্তার দম্পতির।

নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ১৩ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশন করার চুক্তি হয়। আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করে সময় পার করতে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় নার্স কল্পনা আক্তার নরমাল ডেলিভারির করার সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়।’

নবজাতকের মা শারমিন আক্তার বলেন,’ আমার ব্যাথা উঠলে ওই হাসপাতালে ভর্তি রাখার পর থেকে কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করে। এরপর নার্সেরা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। এক পর্যায়ে জরায়ুর মুখ কেটে মৃত নবজাতক বের করে।

ওই হাসপাতালের নার্স কল্পনা আক্তার বলেন, কয়েক বছর যাবৎ অপারেশন থিয়েটারে কাজ করা কারনে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় আমি নবজাতক ডেলিভারি করায়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতক কান্না না করায় অন্য একটি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান নবজাতক মারা গেছে।

আল রাজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) রাসেল মিয়া বলেন,’ এখানে কোনো চিকিৎসক ছিলো না। তাই, রোগী ভর্তি করতে নিষেধ করেছিলাম নার্স কল্পনাকে। আমাকে না জানিয়ে কখন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলো আমি জানি না।’

আরও পড়ুনঃ  জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,’ ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব হাসপাতালে কয়েকদিন পরপরই শিশুসহ রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ওইসব ঘটনা গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়। প্রশাসনও শক্ত কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অপরাধ বেড়েই চলছে। এসব ঘটনার মধ্যে একটির সঠিক বিচার হলে এমন অপরাধ হতো না।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,’ এ ঘটনা অবগত হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সিভিল সার্জন স্যারকে জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

হাসপাতালটির লাইসেন্স আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,’ আগে তারা সময় নিয়েছে। এখন কাগজপত্র কি আছে তা দেখানোর জন্য কয়েকদিন আগে চিঠি দিয়েছি।’শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, মৃত নবজাতককে নিয়ে তার বাবা-মা ও স্বজনেরা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন,’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়েই ঘটনা তদন্ত যাবে উপজেলা প্রশাসন। লাইসেন্সসহ আনুষাঙ্গিক বিষয় গুলো দেখে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান সাংবাদিককে বলেন,’ খবর পেয়ে সেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতিবেদনের পর সিভিল সার্জন অফিস থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই হাসপাতালে পাঠানো হবে। দুই স্তরের তদন্তের রিপোর্ট দেখে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসব ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে আলোর মুখ দেখে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন বলেন,’ এসব ঘটনার কিছুদিন পর বাদী বিবাদী মিলে যায়। যার ফলে আমাদের সাথে আর কেউ যোগাযোগ করেনা। তাই আমরা কার্যকর তেমন পদক্ষেপ নিতে পারিনা। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন কিছুই করার থাকে না।’

আরও পড়ুনঃ  মাদরাসা আবু হুরায়রায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেমরা থানার ওসি, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য