
মোঃ ফজলুল কবির গামা
বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক ইজিবাইক চালককে জিম্মি করে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত চার ডাকাতসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ইজিবাইক, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চারজন ব্যক্তি যাত্রীবেশে কিশোর চালক মিশকাতের ইজিবাইকে ওঠে। পরে ঝিনাইদহ সদর থানার সুতরের খাল বংকিরা মাঠের একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে তার মুখ, হাত ও পা বেঁধে ইজিবাইক এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় পেনাল কোডের ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকা থেকে ইজিবাইক লুটের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ডাকাত আকাশ সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়ারুল, সিরাজুল ইসলাম ও আখতার মোল্লাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া সদর ও কুমারখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত রাশিদুল ইসলাম, লিটন আলী, সজীব শেখ, মাসুদ রানা এবং ইসলাম খান তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ইজিবাইক, একটি মোবাইল ফোন, আরও আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও পাবনা জেলায় দস্যুতা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Reporter Name 
























