লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ।
মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও উত্তম আচরণ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একটি মধুর কথা যেমন মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে, তেমনি একটি কটু কথা বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে গভীর কষ্টের সৃষ্টি করে। তাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভদ্র, নম্র ও সুন্দর আচরণ করা।
সুন্দর আচরণের মধ্যে রয়েছে—সালাম দেওয়া, কুশল বিনিময় করা, কোমল ভাষায় কথা বলা, রাগ ও অহংকার পরিহার করা, পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা, কাউকে অপমান না করা, হাসিমুখে কথা বলা, অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়া এবং দুঃখে পাশে দাঁড়ানো। কারও বিপদে সহানুভূতি প্রকাশ করাও উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক।
আমরা সবাই অন্যের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার প্রত্যাশা করি। কিন্তু অনেক সময় অসাবধানতাবশত আমাদের আচরণেই অন্য কেউ কষ্ট পায়। তাই আমাদের প্রতিটি কথা ও আচরণে সতর্ক থাকা উচিত, যেন কারও হৃদয়ে আঘাত না লাগে।
যার চরিত্র ও ব্যবহার যত সুন্দর, মানুষ তাকে তত বেশি ভালোবাসে, সম্মান করে এবং শ্রদ্ধা করে। আর যার আচরণ রূঢ় ও অশোভন, মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে। সুন্দর ব্যবহার একজন মানুষের উত্তম চরিত্র ও সুন্দর মনের প্রতিফলন।
ইসলামে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো উত্তম চরিত্র।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো আমল থাকবে না।”
— সুনানে তিরমিজি
তিনি আরও বলেন—
“মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র। আর সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে মুখ ও লজ্জাস্থানের অপব্যবহার।”
— সুনানে তিরমিজি
আরও ইরশাদ হয়েছে—
“উত্তম চরিত্রই প্রকৃত নেক আমল।”
— সহিহ মুসলিম
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে যার আচার-আচরণ সবচেয়ে সুন্দর, সে-ই আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।”
— সুনানে তিরমিজি
তিনি আরও বলেন—
“অশ্লীল ও কটু কথা ইসলামের অংশ নয়। যার চরিত্র যত সুন্দর, তার ইসলামও তত সুন্দর।”
— মুসনাদে আহমদ
আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যার চরিত্র সুন্দর, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
— সুনানে আবু দাউদ
আরও ইরশাদ হয়েছে—
“যে ব্যক্তি নম্রতা ও কোমল স্বভাব লাভ করেছে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ লাভ করেছে। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও সুন্দর আচরণ ঘরবাড়ি ও জনপদে বরকত আনে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।”
— মুসনাদে আহমদ
উপসংহার
উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণ শুধু মানুষের ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই আসুন, আমরা সবাই পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সুন্দর ব্যবহার ও উত্তম আচরণের চর্চা করি এবং ইসলামের সৌন্দর্য আমাদের চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক পরিচিতি:
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট।
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট।
সাবেক প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট।
সাবেক প্রধান শিক্ষক, হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
Reporter Name 



























