সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনে জনবল ঘাটতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও তদারকি।
উপজেলার ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫০টিতেই নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। মাত্র ৬৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। একই সঙ্গে শতাধিক সহকারী শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনেও রয়েছে বড় ধরনের জনবল সংকট। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী নবীনগরে একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও ১১ জন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা।
ফলে প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী ও ১ হাজার ৪০০ শিক্ষকের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং ২১৯টি বিদ্যালয়ের তদারকি একাই সামলাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের জনবল সংকটও প্রকট। তিনতলা ভবনের অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ। উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন হিসাব সহকারী দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
হিসাব সহকারী আবু হানিফ বলেন, “২০১২ সালে যোগদানের সময় আমরা চারজন ছিলাম। ২০১৮ সালে তিনজন অবসরে যাওয়ার পর দুইজনে মিলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি। বর্তমানে একাই সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন।
আতিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক বলেন, “১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার জায়গায় একজন দিয়ে এত বড় উপজেলার তদারকি করা সম্ভব নয়। সামান্য কাজের জন্যও অফিসে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।”
একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন গোসাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ তাসলিমা জাহান, শ্যামগ্রামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডালিয়া সুলতানা এবং আশরাফপুরের প্রধান শিক্ষক আরজুদা বেগম। তারা বলেন, কর্মকর্তা ও দাপ্তরিক কর্মচারীর অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মানিক ভূঁইয়া বলেন, “গত সাত মাস ধরে একাই পুরো উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। দাপ্তরিক জনবল না থাকায় কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ১৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দিয়ে নবীনগরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
Reporter Name 






















