শেখ শরিফুল ইসলাম,কালিগঞ্জ ব্যুরো:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির খসরুর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য, বিদ্যালয় চলাকালে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম করে আসছেন। এসব অভিযোগে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, অভিভাবক শেখ আতাউর রহমানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতি শংকর রায়ের নেতৃত্বে সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সেলিম ও এটিও মো. রাকিব হাসান।
তদন্ত চলাকালে একাধিক অভিভাবক লিখিত ও মৌখিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে আদায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক নানা অসঙ্গতি।
উপস্থিত অভিভাবকদের দাবি, তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষক কয়েকটি বিষয়ে নিজের বক্তব্যে অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করেছেন। এ সময় অনেক অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তদন্তে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক শেখ আতাউর রহমান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. নাজিম উদ্দিন, শেখ তদবির আলম, আবু রায়হান, শেখ কেরামত আলী, শেখ আমজাদ হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, শেখ হিমেল, শেখ শফিকুল ইসলাম শফি, মোস্তাহিদুর রহমান লিটন, বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ লুৎফর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জমিদাতা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
তদন্ত শেষে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রাকিব হাসান সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তিনি অভিভাবকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমির খসরুর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
Reporter Name 























