Dhaka ০২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতির রক্তচক্ষু : পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা শিকেয়!

  • সাকিব আহসান
  • সময়: ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯৩ Time View

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন একসময় ছিল জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির অঙ্গন সেই শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছে ভয়ানকভাবে। বিশেষ করে বিগত সরকার যখন স্কুল পর্যায়ে ছাত্রপরিষদ বা নির্বাচনের আয়োজন করে, তখনই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে জড়ানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে যায় — যা পরিণত হয় বিভাজন, হিংসা ও দলীয় আনুগত্যের প্রতিযোগিতায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ সংঘাতে স্কুলপড়ুয়ারাই জড়িয়ে ছিল। গতরাতে একটি রাজনৈতিক দলের দফায় দফায় সংঘর্ষ ‘স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতি প্রবেশের প্রতিবর্তী ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন বৈ কিছুই নয়।

বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নাগরিক চেতনা গঠনের প্রথম ধাপ। সেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ঢুকে পড়লে শিক্ষা হারায় তার মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা। বরং ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীরা শেখে কে “আমাদের দল”, কে “ওদের দল”; বিরোধী মতকে সহ্য না করার সংস্কৃতি জন্ম নেয় অজান্তেই। ফলাফল—বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গায় দেখা যায় রক্তচক্ষু, দলবাজি আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি।

এই প্রক্রিয়ার ভয়াবহ দিক হলো বিদ্যালয়ে যে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার পাঠ শেখানো উচিত, তা উল্টোভাবে বিকৃত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা রাজনীতির নামে শিখছে ক্ষমতার কৌশল, দলীয় ভাষ্য আর প্রতিপক্ষ দমন। শিক্ষকদেরও অনেকে পড়ছেন চাপের মুখে কাকে সমর্থন করবেন, কাকে বিরোধিতা করবেন। ফলে শিক্ষার পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয় ও বিভেদের কেন্দ্র।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতি থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে পারে। অথচ আমাদের দেশে সেই স্বাধীন চিন্তার জায়গাটিই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এখন সময় এসেছে এই দুষ্টচক্র ভাঙার। স্কুলে রাজনৈতিক নির্বাচনের নামে বিভাজন সৃষ্টির এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা হতে হবে মানবিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সহমর্মিতার পাঠশালা। শিশুরা যেন প্রথমে মানুষ হতে শেখে—দলীয় সৈনিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  চলে গেলেন প্রিয় সহকর্মী গোলাম বারী ইউনুস

শিক্ষাঙ্গন যদি আবারও মুক্ত চিন্তা, নৈতিকতা ও সহনশীলতার আলয় হয়ে উঠতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে আলোকিত ও ঐক্যবদ্ধ। অন্যথায়, স্কুল প্রাঙ্গণের রাজনীতি একদিন আমাদের জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়কে ম্লান করে দেবে যার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকেই।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতির রক্তচক্ষু : পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা শিকেয়!

সময়: ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন একসময় ছিল জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির অঙ্গন সেই শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছে ভয়ানকভাবে। বিশেষ করে বিগত সরকার যখন স্কুল পর্যায়ে ছাত্রপরিষদ বা নির্বাচনের আয়োজন করে, তখনই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে জড়ানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে যায় — যা পরিণত হয় বিভাজন, হিংসা ও দলীয় আনুগত্যের প্রতিযোগিতায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ সংঘাতে স্কুলপড়ুয়ারাই জড়িয়ে ছিল। গতরাতে একটি রাজনৈতিক দলের দফায় দফায় সংঘর্ষ ‘স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতি প্রবেশের প্রতিবর্তী ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন বৈ কিছুই নয়।

বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নাগরিক চেতনা গঠনের প্রথম ধাপ। সেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ঢুকে পড়লে শিক্ষা হারায় তার মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা। বরং ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীরা শেখে কে “আমাদের দল”, কে “ওদের দল”; বিরোধী মতকে সহ্য না করার সংস্কৃতি জন্ম নেয় অজান্তেই। ফলাফল—বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গায় দেখা যায় রক্তচক্ষু, দলবাজি আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি।

এই প্রক্রিয়ার ভয়াবহ দিক হলো বিদ্যালয়ে যে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার পাঠ শেখানো উচিত, তা উল্টোভাবে বিকৃত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা রাজনীতির নামে শিখছে ক্ষমতার কৌশল, দলীয় ভাষ্য আর প্রতিপক্ষ দমন। শিক্ষকদেরও অনেকে পড়ছেন চাপের মুখে কাকে সমর্থন করবেন, কাকে বিরোধিতা করবেন। ফলে শিক্ষার পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয় ও বিভেদের কেন্দ্র।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতি থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে পারে। অথচ আমাদের দেশে সেই স্বাধীন চিন্তার জায়গাটিই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এখন সময় এসেছে এই দুষ্টচক্র ভাঙার। স্কুলে রাজনৈতিক নির্বাচনের নামে বিভাজন সৃষ্টির এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা হতে হবে মানবিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সহমর্মিতার পাঠশালা। শিশুরা যেন প্রথমে মানুষ হতে শেখে—দলীয় সৈনিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  বন্যাদুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, চকরিয়া-পেকুয়ায় ত্রাণ বিতরণ

শিক্ষাঙ্গন যদি আবারও মুক্ত চিন্তা, নৈতিকতা ও সহনশীলতার আলয় হয়ে উঠতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে আলোকিত ও ঐক্যবদ্ধ। অন্যথায়, স্কুল প্রাঙ্গণের রাজনীতি একদিন আমাদের জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়কে ম্লান করে দেবে যার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকেই।