Dhaka ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাজশাহীর বাজারে মধুপুরের মিষ্টি আনারস তাহিরপুরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে মারধর, মাথায় পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ পরিবারকে সময় দিতেই ৮ বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন প্রীতি জিনতা ফুলহ্যাম থেকে ধারে বোরহাম উডে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান ন্যাটোভুক্ত দেশে রাশিয়ার সীমিত হামলার আশঙ্কা, বলছে মার্কিন গোয়েন্দা ট্রাম্পের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পে আদালতের স্থগিতাদেশ গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি জামায়াত আমিরের: রাশেদ খাঁন বিদেশে চিকিৎসা নয়, দেশেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী খুলনায় ৩,৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু

  • Reporter Name
  • সময়: ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ Time View

আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।

গত ২৬ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করার কারণে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হাই ও তার লোকজন প্রতিবেশী মধু মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধু মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় মধু মিয়ার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মধু মিয়া (৪৮), আবুল কাশেম (৪২), আব্দুস ছালাম (৩৭), মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৪০), মেয়ে শের আলী (২৮), কাশেম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও ছেলে বিপ্লব (২০) আহত হন।

পরদিন রাতেই নিহত মধু মিয়ার ছোট ভাই আহত আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে একই গ্রামের তরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫), মাসুক মিয়া (২৯), রহিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৭), জাকির মিয়া (২০), ফরিদ মিয়া (৩১) ও মেয়ে শেফালী বেগম (২২)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত ও মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দৌলতপুরের ভুরকা পাড়ায় পদ্মার ভাঙন দেখতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রোববার ভোর সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল হাই ও তার লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মধু মিয়া, আবুল কাশেম, শের আলী, বিপ্লব, সাফিয়া বেগম এবং আব্দুল ছালামসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধু মিয়া, কাশেম মিয়া ও সাফিয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সেখানে মধু মিয়া ও আবুল কাশেম আইসিইউতে ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া মারা যান।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ মধু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরতে র‍্যাবকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাজশাহীর বাজারে মধুপুরের মিষ্টি আনারস

তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু

সময়: ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।

গত ২৬ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করার কারণে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হাই ও তার লোকজন প্রতিবেশী মধু মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধু মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় মধু মিয়ার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মধু মিয়া (৪৮), আবুল কাশেম (৪২), আব্দুস ছালাম (৩৭), মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৪০), মেয়ে শের আলী (২৮), কাশেম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও ছেলে বিপ্লব (২০) আহত হন।

পরদিন রাতেই নিহত মধু মিয়ার ছোট ভাই আহত আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে একই গ্রামের তরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫), মাসুক মিয়া (২৯), রহিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৭), জাকির মিয়া (২০), ফরিদ মিয়া (৩১) ও মেয়ে শেফালী বেগম (২২)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত ও মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভোলাহাটে অসহায় তামিজুদ্দিন ৭২ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রোববার ভোর সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল হাই ও তার লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মধু মিয়া, আবুল কাশেম, শের আলী, বিপ্লব, সাফিয়া বেগম এবং আব্দুল ছালামসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধু মিয়া, কাশেম মিয়া ও সাফিয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সেখানে মধু মিয়া ও আবুল কাশেম আইসিইউতে ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া মারা যান।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ মধু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরতে র‍্যাবকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।