Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: রবির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর বিশ্বম্ভরপুরে নবাগত ইউএনও সখিনা আক্তারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বন্যাদুর্গত মানুষের কান্নায় ভারী দেশ: অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে দেড় কেজি হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার, নেপথ্যের গডফাদারদের খুঁজছে ডিএনসি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের পাশে প্রবাসী অনলাইন গ্রুপ-সৌদি আরব (দাম্মাম) হুমকি, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ বীরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ জাসদ কর্নেল তাহের হত্যা দিবস পালন করেছে ডুমুরিয়ার টিপনা শেখ আমজাদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ‘আদর্শ গ্রাম’ হলেও মেলেনি সরকারীকরণের স্বীকৃতি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কিশোরগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে মুখরোচক খাবার সিদল

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • ৩৭০ Time View

 

রাশেদ নিজাম শাহ, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) প্রতিনিধি:

শুটকি মাছ ও কচুর ডাটা দিয়ে তৈরি করা এক প্রকারের খাবারের নাম সিদল যা নীলফামারী অঞ্চলের একটি বিশেষায়িত খাবার। গ্রাম বাংলার মুখরোচক খাবার হিসেবে এর কদর রয়েছে।

নাকে ঘান পেলেই সিদলপ্রিয় মানুষের জিহবায় লালা আসে। ‘সিদল’ একবার যারা খেয়েছে, না পেলে অবশ্যই পস্তাবে। শহুরে নিকট আত্বীয়ের মন জোগাতেও অস্ত্র হিসাবে স্বল্প আয়ের মানুষ ব্যবহার করে এই ‘সিদল’। ভোজনপ্রিয়রা ‘সিদলের’ জন্য লালায়িত থাকে। স্বাদে ও গুনে ভরপুর। রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘সিদল’ এখনও জনপ্রিয়। এই প্রজন্মের অনেকেই সিদল চোখে না দেখলেও, কেই হয়তো নাম শুনে থাকতে পারে। গ্রামের সৌখিন বধূরা মাঝে-মধ্যে সিদল তৈরী করে। নিত্যপন্যের মুল্যবৃদ্ধি ও এর তৈরী প্রক্রিয়া একটু সময় নেয় বলে কম দেখা যায় সিদলের।

নানা জাতের দেশীয় ছোট মাছের শুটকি, কচুর কুচি ডাটা, রসুন-আদা, কাচা মরিচ, লবন, হলুদ, খাঁটি সরিষার তেল সিদল তৈরীর মুল উপাদান। দেশী পুঁটি, খৈলশা, চান্দা, দারিকা, মউকা চেলী, শাটি, বাইলা, ছোট ট্যাংরা ও চিংড়ি রোঁদে শুকিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকি করে সৌখিনপ্রিয় গ্রামের বধূঁরা। কঁচুর ডাটা কুচি করে কেটে রোঁদে শুকিয়ে শুটকি সহ শিলপাটা কিংবা উরুণ-গাউনে পিষে চিতই পিঠে কিংবা বড় আকারের বড়ইয়ের মত ‘সিদল’ বানাবার দৃশ্য চোখে পরে।সিদলের মানবৃদ্ধি ও ভিন্নতা আনার জন্য মশলা হিসাবে দেয়া হয় রসুন-আদা, কাচা মরিচ, লবন, হলুদ ও খাঁটি সরিষার তেল।এতে তৈরী হয় অমৃত সুধার মত সুঘ্রাণ ‘সিদল’। কালো ও হালকা সবুজে ছড়ানো রূপহীন ‘সিদল’। কিন্তু স্বাধে ও গুণে ভরা। দিন যত গড়ায় ততো মজাদার হয়ে উঠে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ‘সিদল’ হাড়ি-পাতিল ভর্তি ছাইয়ের মাঝে রাখার প্রচলন আছে। এ কারণে পোকার আক্রমণ কম হয়। তবে আধুনিক যুগে ডিপ ফ্রিজে এখন অনেকেই ‘সিদল’ রাখেন।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ফেররান তোরেস, যেভাবে স্পেনের ইতিহাস গড়লেন

খাবারে অরুচি আসলে ভোজনপ্রিয়রা খোঁজে ফিরেন ‘সিদল’। রুচিতে যেন জুড়ি নেই সিদলের। মাছ কিংবা সব্জির সাথে রান্না করলে সুঘ্রাণ চারদিক ছড়িয়ে পরে। এক সময় ঘড়ে ঘড়ে সিদল পাওয়া যেত। এখন অনেকটাই দুস্পাপ্য। সংসারের হাল ধরা গৃহবধূরা কাজের চাপে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না।

এছাড়া রয়েছে, দেশী ছোট মাছের সংকট। আগে ঘড় থেকে বের হলেই চারদিক পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও নদীতে মিলত ছোট মাছ। থৈ থৈ করত পানি। জাল ফেললেই উঠে আসতো ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। বর্ষার শেষ দিকে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোতে অনেক বেশী মাছ পাওয়া যেতো। এর মধ্যে সব ধরণের ছোট মাছ পাওয়া যেত। এখন জলাশয় কম। যত্রতত্র মাছও মিলে না।

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা গ্রামের রোকেয়া বেগম জানান, ‘কচুবাটার সথে দেশী মাছের শুকটা, আর তার সথে কাঁচা আকালী, নুন, অসুন ও আদা বাটা একটে করিবার নাগে। এ্যারপর হাতের মুটোত চিপিয়া গোল করা যায়, ফির চিতাউ পিঠার মোতন চ্যাপটাও করা যায় সিদল। মাছ নাহয় সবজিত দিয়া আন্না করলে হাউসে হাউসে খাওয়া যায়।’

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার যদুমনি গ্রামের কৃষক আলম হোসেন বলেন, এক সময় পিছিয়ে পড়া নারীরা ডালিতে করে ‘সিদল’ বিক্রি করত। দেশীয় ছোট মাছের আকাল ও নিত্যপন্যের মুল্যবৃদ্ধির কারণে এসব পিছিয়ে পড়া মানুষ সখের সিদল আর তৈরী করতে পারেন না। এ কারণে আর চোখে পড়ে না ছিড়ে যাওয়া মলিন শাড়ীতে ফেরী করা সেই ‘সিদল’ বিক্রেতার হাক। বাতাসেও তেমন ছড়ায় না মন ভোলানো সিদলের সুঘ্রাণ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: রবির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

কিশোরগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে মুখরোচক খাবার সিদল

সময়: ০২:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

রাশেদ নিজাম শাহ, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) প্রতিনিধি:

শুটকি মাছ ও কচুর ডাটা দিয়ে তৈরি করা এক প্রকারের খাবারের নাম সিদল যা নীলফামারী অঞ্চলের একটি বিশেষায়িত খাবার। গ্রাম বাংলার মুখরোচক খাবার হিসেবে এর কদর রয়েছে।

নাকে ঘান পেলেই সিদলপ্রিয় মানুষের জিহবায় লালা আসে। ‘সিদল’ একবার যারা খেয়েছে, না পেলে অবশ্যই পস্তাবে। শহুরে নিকট আত্বীয়ের মন জোগাতেও অস্ত্র হিসাবে স্বল্প আয়ের মানুষ ব্যবহার করে এই ‘সিদল’। ভোজনপ্রিয়রা ‘সিদলের’ জন্য লালায়িত থাকে। স্বাদে ও গুনে ভরপুর। রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘সিদল’ এখনও জনপ্রিয়। এই প্রজন্মের অনেকেই সিদল চোখে না দেখলেও, কেই হয়তো নাম শুনে থাকতে পারে। গ্রামের সৌখিন বধূরা মাঝে-মধ্যে সিদল তৈরী করে। নিত্যপন্যের মুল্যবৃদ্ধি ও এর তৈরী প্রক্রিয়া একটু সময় নেয় বলে কম দেখা যায় সিদলের।

নানা জাতের দেশীয় ছোট মাছের শুটকি, কচুর কুচি ডাটা, রসুন-আদা, কাচা মরিচ, লবন, হলুদ, খাঁটি সরিষার তেল সিদল তৈরীর মুল উপাদান। দেশী পুঁটি, খৈলশা, চান্দা, দারিকা, মউকা চেলী, শাটি, বাইলা, ছোট ট্যাংরা ও চিংড়ি রোঁদে শুকিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকি করে সৌখিনপ্রিয় গ্রামের বধূঁরা। কঁচুর ডাটা কুচি করে কেটে রোঁদে শুকিয়ে শুটকি সহ শিলপাটা কিংবা উরুণ-গাউনে পিষে চিতই পিঠে কিংবা বড় আকারের বড়ইয়ের মত ‘সিদল’ বানাবার দৃশ্য চোখে পরে।সিদলের মানবৃদ্ধি ও ভিন্নতা আনার জন্য মশলা হিসাবে দেয়া হয় রসুন-আদা, কাচা মরিচ, লবন, হলুদ ও খাঁটি সরিষার তেল।এতে তৈরী হয় অমৃত সুধার মত সুঘ্রাণ ‘সিদল’। কালো ও হালকা সবুজে ছড়ানো রূপহীন ‘সিদল’। কিন্তু স্বাধে ও গুণে ভরা। দিন যত গড়ায় ততো মজাদার হয়ে উঠে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ‘সিদল’ হাড়ি-পাতিল ভর্তি ছাইয়ের মাঝে রাখার প্রচলন আছে। এ কারণে পোকার আক্রমণ কম হয়। তবে আধুনিক যুগে ডিপ ফ্রিজে এখন অনেকেই ‘সিদল’ রাখেন।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষা, মেধা ও প্রত্যাবর্তনের গল্প: ডা. জোবাইদা রহমানের আলোকিত জীবন

খাবারে অরুচি আসলে ভোজনপ্রিয়রা খোঁজে ফিরেন ‘সিদল’। রুচিতে যেন জুড়ি নেই সিদলের। মাছ কিংবা সব্জির সাথে রান্না করলে সুঘ্রাণ চারদিক ছড়িয়ে পরে। এক সময় ঘড়ে ঘড়ে সিদল পাওয়া যেত। এখন অনেকটাই দুস্পাপ্য। সংসারের হাল ধরা গৃহবধূরা কাজের চাপে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না।

এছাড়া রয়েছে, দেশী ছোট মাছের সংকট। আগে ঘড় থেকে বের হলেই চারদিক পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও নদীতে মিলত ছোট মাছ। থৈ থৈ করত পানি। জাল ফেললেই উঠে আসতো ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। বর্ষার শেষ দিকে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোতে অনেক বেশী মাছ পাওয়া যেতো। এর মধ্যে সব ধরণের ছোট মাছ পাওয়া যেত। এখন জলাশয় কম। যত্রতত্র মাছও মিলে না।

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা গ্রামের রোকেয়া বেগম জানান, ‘কচুবাটার সথে দেশী মাছের শুকটা, আর তার সথে কাঁচা আকালী, নুন, অসুন ও আদা বাটা একটে করিবার নাগে। এ্যারপর হাতের মুটোত চিপিয়া গোল করা যায়, ফির চিতাউ পিঠার মোতন চ্যাপটাও করা যায় সিদল। মাছ নাহয় সবজিত দিয়া আন্না করলে হাউসে হাউসে খাওয়া যায়।’

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার যদুমনি গ্রামের কৃষক আলম হোসেন বলেন, এক সময় পিছিয়ে পড়া নারীরা ডালিতে করে ‘সিদল’ বিক্রি করত। দেশীয় ছোট মাছের আকাল ও নিত্যপন্যের মুল্যবৃদ্ধির কারণে এসব পিছিয়ে পড়া মানুষ সখের সিদল আর তৈরী করতে পারেন না। এ কারণে আর চোখে পড়ে না ছিড়ে যাওয়া মলিন শাড়ীতে ফেরী করা সেই ‘সিদল’ বিক্রেতার হাক। বাতাসেও তেমন ছড়ায় না মন ভোলানো সিদলের সুঘ্রাণ।