Dhaka ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামন কামরুল অধিবেশনে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন বুড়িচং পৌরসভার মাস্টার প্ল্যানিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে বিশেষ অভিযানে নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার হাজার ইয়াবা ও গাঁজা ভূরুঙ্গামারীতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শীর্ষে তিলাই ইউনিয়ন নরসিংদীর শিবপুরে নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির আলোচনা সভা ও আইডি কার্ড বিতরণ বালিয়াকান্দিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগের জেরে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪ পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড, সংসদে বিল পাস:  শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর বিশাল অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“ঠেলেই বদলি হয়ে পদায়ন নিয়েছি”- পৌর নির্বাহী বদরুজ্জামান

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২০৮ Time View

 

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবার অপবাদ ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে। তবে, ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন প্রশাসকের চেষ্টায় ওই অপবাদ দূরীকরণ প্রায় নিশ্চিত। ঠিক সেসময় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই যেনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পৌরসভায় এখনও বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন তারা। সেবা নিতে গিয়ে এখনও পদে পদে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

 

নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদের জন্য তৃতীয় বারের মতো পদায়ন অর্ডার নেওয়া বদরুজ্জামান বাদলকে নিয়ে। চলতি মাসের ১৬তারিখে বদলির আদেশ মর্মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা থেকে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। যিনি ১০-০৮-২০০২ইং সাল থেকে ০৬-১০-২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় দফায় ৩১-০৮-২০১৬ সাল থেকে ১৫-০৮-২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, ‘বিতর্কিত এই পৌর নির্বাহী ২০১৬-১৯ সাল পর্যন্ত বিগত আ’লীগ সরকারের মনোনীত মেয়রের তত্ত্বাবধানে একচ্ছত্র ক্ষমতায় কাজ করেছেন।

 

তিনি অবৈধভাবে পৌরসভার রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ না করে মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার আমলে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছিল জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার খাতে। অফিসের কর্মচারী জহিরের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ আছে।সেসময় সাধারণ জনগণ কোনও অভিযোগ করার সাহস পায়নি। এছাড়াও, তৎকালীন আ’লীগ সরকারের আমলে জাল জালিয়াতি করে কিংবা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এখনো অন্যায় অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

 

পৌর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর সরকারের বরাদ্দ করা বিভিন্ন প্রকল্প ও এডিবির কোটি কোটি টাকার কোনও কাজ হয়নি। একটু বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন হয় না। রাস্তা ঘাট গুলো গত ৬ মাস আগেও চলার অনুপযোগী ছিল। এখন দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে। স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা, আবারও কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে পৌরসভার দায়িত্ব গেলে ওইসকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আবারও লুটপাট চালাবে।

আরও পড়ুনঃ  ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগের জেরে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

 

মনির হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা বাদলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বলেন, ২০১৭ সালে অনিয়মে ধরা পড়ায় পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন প্রতিবাদ করেন। সেসময় কাউন্সিলরকে গালাগালি করায় লাঞ্চনার শিকার হন ওই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এতোকিছুর পরেও এই কর্মকর্তাকে এখানে পদায়ন করতে হবে কেনো? দেশে কি এ পদে আর লোক নেই.?

 

রাশেদ নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘মশার উৎপাতে এলাকার মানুষ নাজেহাল। পৌরসভা থেকে মশক নিধনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হলেও ওই পৌর সচিবের সময়ে কোনও কার্যক্রম চোখে পড়েনি।’
ফয়সাল আহমেদ নামের এক সাংবাদিক তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,’কি মধু আছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায়! এবার তৃতীয় বারের মতো দায়িত্ব নিতে অর্ডার করিয়েছেন পৌর নির্বাহী জনাব বদরুজ্জামান বাদল সাহেব।

 

মাত্র ছয় মাস হলো শ্রীপুর পৌরসভায় একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন সিদ্দিকুর রহমান। অথচ তাকে সরিয়ে দেয়া হলো। এটা কি ধরনের বিচার? কোন অভিযোগ না উঠার পরও ছয় মাসের মধ্যে একজন কর্মকর্তার বদলী হওয়া সত্যিই হতাশাজনক।

 

অভিযোগ উঠেছে, এখানে নাকি লাখ লাখ লেনদেন হয়েছে, বাদল সাহেবের চাকুরী আছে মাত্র এক বছর, অন্তত শ্রীপুর থেকে এলপিআরে গেলে পেনশনের টাকাটা নিতে পারবেন।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখায় অসাধু কর্মকর্তারা নাকি দায়িত্বপালন করেন। যেখানে তাদের সহায়তায় শ্রীপুর পৌরসভার দুর্নীতিবাজরা বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে, আর হয়রানীর শিকার ভালো ইমেজধারী কর্মকর্তারা। জনাব Asif Mahmud Shojib Bhuyain আপনার দপ্তরে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ এখনও নিধন করতে পারেননি, আপনি কি ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছেন?”

ক্ষোভ প্রকাশ করে মাজহার হোসেন নামে পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক হাসিনার পতন হয়ে কোনও লাভ নেই,কারন অনুসারীরা অনেকেই পৌরসভায় চাকরি করছে। আগের মতোই তারা এখনও সিন্ডিকেট তৈরি করে নাগরিকদের হয়রানি করেই যাচ্ছে। আর বর্তমানের কিছু নেতারা ওদের শেল্টার দিচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ  মাদকমুক্ত মুসলিমাবাদ: এলাকাবাসীর প্রতিরোধে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা এলাকা ছাড়ল

জুবায়ের হোসেন নামের একজন বলেন,’ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সড়কবাতিগুলো এখনও নষ্ট হয়ে আছে। এ ছাড়াও অভিযোগ আছে, সড়কের বাতি কেনার জন্য ব্যাপক টাকা আত্মসাৎ করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। দ্রুত এসব দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারের সমর্থকদের পৌরসভা থেকে সরানো হোক।’

তৃতীয় বারের মতো পদায়নের ব্যাপারে বদরুজ্জামান বাদল মুঠোফোনে বলেন,’এই পদের জন্য অনেক ঠেলালাঠেলি। শ্রীপুরে যিনি ছিলেন আমিও তাকে ঠেলা দিয়ে এসেছি। আমাকে ঠেলার জন্য আরেকজন রেডি আছে। আর শ্রীপুরে আমার কাছাকাছি হয়। অন্য পৌরসভায় তেমন অর্থ নেই। এখান থেকেই অবসরে যাওয়ার জন্য পাওনা অর্থ নেওয়া সহজ।’

আগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন ‘যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই। সেসময় নিয়ম মেনেই সব কাজ করা হয়েছিল। আর কাজ করার নির্দেশ দেয় পৌর মেয়র। আমার একার কিছুই করার থাকেনা।’

 

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ মানব জীবনকে বলেন, ‘এ পৌরসভায় আগে কী হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। আমাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে কোনও প্রকার অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার পদায়ন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে হয় সুতরাং আমি সে আদেশ বলে ব্যবস্থা নিবো।’

 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন,’আমি এ জেলায় নতুন। পৌরসভার বিষয়টি পৌর প্রশাসক দেখেন। পাশাপাশি এখন সেখানে কোনো অনিয়ম হলে আমাকে জানালে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

“ঠেলেই বদলি হয়ে পদায়ন নিয়েছি”- পৌর নির্বাহী বদরুজ্জামান

সময়: ০৭:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

 

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবার অপবাদ ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে। তবে, ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন প্রশাসকের চেষ্টায় ওই অপবাদ দূরীকরণ প্রায় নিশ্চিত। ঠিক সেসময় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই যেনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পৌরসভায় এখনও বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন তারা। সেবা নিতে গিয়ে এখনও পদে পদে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

 

নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদের জন্য তৃতীয় বারের মতো পদায়ন অর্ডার নেওয়া বদরুজ্জামান বাদলকে নিয়ে। চলতি মাসের ১৬তারিখে বদলির আদেশ মর্মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা থেকে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। যিনি ১০-০৮-২০০২ইং সাল থেকে ০৬-১০-২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় দফায় ৩১-০৮-২০১৬ সাল থেকে ১৫-০৮-২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, ‘বিতর্কিত এই পৌর নির্বাহী ২০১৬-১৯ সাল পর্যন্ত বিগত আ’লীগ সরকারের মনোনীত মেয়রের তত্ত্বাবধানে একচ্ছত্র ক্ষমতায় কাজ করেছেন।

 

তিনি অবৈধভাবে পৌরসভার রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ না করে মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার আমলে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছিল জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার খাতে। অফিসের কর্মচারী জহিরের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ আছে।সেসময় সাধারণ জনগণ কোনও অভিযোগ করার সাহস পায়নি। এছাড়াও, তৎকালীন আ’লীগ সরকারের আমলে জাল জালিয়াতি করে কিংবা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এখনো অন্যায় অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

 

পৌর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর সরকারের বরাদ্দ করা বিভিন্ন প্রকল্প ও এডিবির কোটি কোটি টাকার কোনও কাজ হয়নি। একটু বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন হয় না। রাস্তা ঘাট গুলো গত ৬ মাস আগেও চলার অনুপযোগী ছিল। এখন দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে। স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা, আবারও কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে পৌরসভার দায়িত্ব গেলে ওইসকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আবারও লুটপাট চালাবে।

আরও পড়ুনঃ  আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা: আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী শিক্ষায় গড়ে উঠছে আগামীর প্রজন্ম

 

মনির হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা বাদলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বলেন, ২০১৭ সালে অনিয়মে ধরা পড়ায় পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন প্রতিবাদ করেন। সেসময় কাউন্সিলরকে গালাগালি করায় লাঞ্চনার শিকার হন ওই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এতোকিছুর পরেও এই কর্মকর্তাকে এখানে পদায়ন করতে হবে কেনো? দেশে কি এ পদে আর লোক নেই.?

 

রাশেদ নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘মশার উৎপাতে এলাকার মানুষ নাজেহাল। পৌরসভা থেকে মশক নিধনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হলেও ওই পৌর সচিবের সময়ে কোনও কার্যক্রম চোখে পড়েনি।’
ফয়সাল আহমেদ নামের এক সাংবাদিক তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,’কি মধু আছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায়! এবার তৃতীয় বারের মতো দায়িত্ব নিতে অর্ডার করিয়েছেন পৌর নির্বাহী জনাব বদরুজ্জামান বাদল সাহেব।

 

মাত্র ছয় মাস হলো শ্রীপুর পৌরসভায় একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন সিদ্দিকুর রহমান। অথচ তাকে সরিয়ে দেয়া হলো। এটা কি ধরনের বিচার? কোন অভিযোগ না উঠার পরও ছয় মাসের মধ্যে একজন কর্মকর্তার বদলী হওয়া সত্যিই হতাশাজনক।

 

অভিযোগ উঠেছে, এখানে নাকি লাখ লাখ লেনদেন হয়েছে, বাদল সাহেবের চাকুরী আছে মাত্র এক বছর, অন্তত শ্রীপুর থেকে এলপিআরে গেলে পেনশনের টাকাটা নিতে পারবেন।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখায় অসাধু কর্মকর্তারা নাকি দায়িত্বপালন করেন। যেখানে তাদের সহায়তায় শ্রীপুর পৌরসভার দুর্নীতিবাজরা বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে, আর হয়রানীর শিকার ভালো ইমেজধারী কর্মকর্তারা। জনাব Asif Mahmud Shojib Bhuyain আপনার দপ্তরে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ এখনও নিধন করতে পারেননি, আপনি কি ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছেন?”

ক্ষোভ প্রকাশ করে মাজহার হোসেন নামে পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক হাসিনার পতন হয়ে কোনও লাভ নেই,কারন অনুসারীরা অনেকেই পৌরসভায় চাকরি করছে। আগের মতোই তারা এখনও সিন্ডিকেট তৈরি করে নাগরিকদের হয়রানি করেই যাচ্ছে। আর বর্তমানের কিছু নেতারা ওদের শেল্টার দিচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ  গলাচিপায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, ২৩ সদস্যের মাঝে ১৮ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

জুবায়ের হোসেন নামের একজন বলেন,’ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সড়কবাতিগুলো এখনও নষ্ট হয়ে আছে। এ ছাড়াও অভিযোগ আছে, সড়কের বাতি কেনার জন্য ব্যাপক টাকা আত্মসাৎ করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। দ্রুত এসব দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারের সমর্থকদের পৌরসভা থেকে সরানো হোক।’

তৃতীয় বারের মতো পদায়নের ব্যাপারে বদরুজ্জামান বাদল মুঠোফোনে বলেন,’এই পদের জন্য অনেক ঠেলালাঠেলি। শ্রীপুরে যিনি ছিলেন আমিও তাকে ঠেলা দিয়ে এসেছি। আমাকে ঠেলার জন্য আরেকজন রেডি আছে। আর শ্রীপুরে আমার কাছাকাছি হয়। অন্য পৌরসভায় তেমন অর্থ নেই। এখান থেকেই অবসরে যাওয়ার জন্য পাওনা অর্থ নেওয়া সহজ।’

আগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন ‘যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই। সেসময় নিয়ম মেনেই সব কাজ করা হয়েছিল। আর কাজ করার নির্দেশ দেয় পৌর মেয়র। আমার একার কিছুই করার থাকেনা।’

 

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ মানব জীবনকে বলেন, ‘এ পৌরসভায় আগে কী হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। আমাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে কোনও প্রকার অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার পদায়ন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে হয় সুতরাং আমি সে আদেশ বলে ব্যবস্থা নিবো।’

 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন,’আমি এ জেলায় নতুন। পৌরসভার বিষয়টি পৌর প্রশাসক দেখেন। পাশাপাশি এখন সেখানে কোনো অনিয়ম হলে আমাকে জানালে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।