
আবু লাহাব একজন জগন্য মানুষ, আবু লাহাব একটি অভিশাপ্ত মানুষ, আবু লাহাব একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত মানুষ। আবু লাহাব ছিলেন ইসলাম বিরোধী ও প্রিয় নবীজীর দুশমন। বিশ্বের মুসলিমরা এই মানুষটিকে ঘৃণার চোখে দেখে। মক্কার বিখ্যাত কাফের আবু লাহাব ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাস জুলমবাজ ও অত্যাচারী। আমাদের সমাজে আবু লাহাবের মতো অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদের শক্তি ও প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে ও জায়গা জমিন দখল করে। তারা সিএনজি স্টান্ড বাস স্টান্ড ও টাক স্টান্ড থেকে চাঁদাবাজি করে। আমাদের দেশে আবু লাহাবের মতো অনেক মানুষ আছে যারা দুর্নীতি করে ও বিদেশে কোটি কোটি টাকা প্রাচার করে। বিভিন্ন অফিস আদালতে আবু লাহাবের মতো অনেক মানুষ আছে যারা ঘুষের বিনিময় কাজ করে ও ঘুষের টাকা না দিলে তারা কোন কাজ করে না । তাদের কাছে সাধারণ মানুষ খুব ভোগান্তির মধ্যে পড়ে।
আমাদের সমাজের অনেক মানুষ আছে যাদের মুখের ব্যবহার আবু লাহাবের মতো, তাদের মুখের ব্যবহার খুব ভয়ঙ্কর, তারা খারাপ ব্যবহার করে অন্য মানুষদের কে আঘাত করে । আমাদের সমাজে আবু লাহাবের মতো অনেক সম্পদশালী লোক আছে, তারা খুব কৃপন ও তারা কোন দান খয়রাত করে না । তাজেদার মদীনা, রাহমাহতাল্লিন আলামিন, হুজুরে আকরাম, সায়্যিদুল মুরসালিন, সৃষ্টি কূলের সেরা নবী, আখেরী নবী, হযরত মুহাম্মদ ( সা:) তিনি হলেন সারাজাহানের জন্য রহমত। অথচ বিখ্যাত কাফের আবু লাহাব অনেক কষ্ট ও লাঞ্ছনা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী (সা:) কে। প্রিয় নবী (সা:) যখন ইসলামের বাণী প্রচার করতেন তখন আবু লাহাব প্রিয় নবী (সা:) কে জাদুকর বলতেন, এই অপবাদ দিয়ে মানুষদের কে দূরে রাখতেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা:) আবু লাহাবকে ইসলামের পথে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেই কোনভাবে আসে নাই, বরং প্রিয় নবী কে নিয়ে দুশমনি ও শ্রুত্রুতা করতেন। প্রিয় নবী (সা:) একটি বাজারে মানুষদের কে আহ্বান করলেন, লা ইলাইহা ইল্লাল্লাহ, বলো সফলতা অর্জন করবে, ঠিক সেই সময় দূষ্ট আবু লাহাব প্রিয় নবীজীর পিছন দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করেছেন। এমতাবস্থায় নবীজীর দেহ মুবারক রক্তাক্ত হয়ে গেল, আর সেই বলতে লাগলো তোমরা তাকে অনুসূরণ করো না।
আল্লাহ বলেন: ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। (সূরা লাহাব, আয়াত: ১) মক্কার চারজন সম্পদশালী লোক ছিলেন, তার মধ্যে একজন ছিলেন আবু লাহাব। আবু লাহাব ছিল খুব কৃপন লোক, সেই ধন সম্পদ জমা করতো কিন্তু কোন দান খয়রাত করতো না। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের জয় ও কাফিরদের পরাজয় হওয়ার পরে আবু লাহাব খুব হতাশ হলেন এবং সেই বসন্ত রোগে আক্রন্ত হয়। তার পুরা শরীলে ভালোভাবে বসন্ত রোগে আক্রন্ত করে, এবং তার আপন স্ত্রী সন্তান সবাই তাকে ঘরে একা রেখে চলে যায়। ঘরের মধ্যে আবু লাহাব একা যন্ত্রায় কাতাচ্ছে , ফলে আবু লাহাব মৃত্যু বরণ করেন। তার লাশটি ঘরের মধ্যে একা রইলো। চারদিকে দূরগন্ধ ছড়িয়ে পড়লো, প্রতিবেশী অতিষ্ঠি হয়ে এক ছেলের কাছে অভিযোগ করে। ঐ ছেলে কিছু হাবশী লোক ভাড়া করলো। তারা কুয়া খনন করে লাটি দিয়ে লাশটি দাফন করে মাটি ও পাথর দ্বারা কুয়ার মুখটি বন্ধ করে দেয়। আল্লাহ বলেন: তার ধন-সম্পদ ও তার উপার্জন তার কোন উপকারে আসবে না। (সূরা লাহাব, আয়াত: ২) আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামির তার স্বামী মতো খারাপ ছিল সেই প্রিয় নবীজীর দুশমন ছিল। সেই প্রিয় নবীজীকে বিভিন্ন ভাবে কষ্ট দিতেন, সেই রাতের আঁধারে নবীজীর ঘরে সামনে কাটা দিতেন। উম্মে জামিল এক মহিলা আরেক মহিলার বিরুদ্ধে ক্ষেপেয়ি তুলতেন, ও মিথ্যাচার করতেন, চোখেলখীরি করতেন। সেই একদিন কাষ্ঠের বোঝা বহন করার পর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়, পরে সেই একটি পাথরের উপর বসে। সেই সময় একজন ফেরেশতা পিছন দিয়ে রশি লাগিয়ে টানে, আর সেই পড়ে যায় সেই সময়ই তার মৃত্যুবরণ হয় ।
আল্লাহ বলেন: অচিরেই সে শিখা বিশিষ্ট জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে, (সূরা লাহাব, আয়াত: ৩) প্রিয় নবী (সা:) কে কষ্ট দেওয়ার কারণে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়েছেন। তারা সারাজীবন জাহান্নামের তলদেশে থাকবেন ও লেলিহান শিখাযুক্ত আগুনে জ্বলবে ।
আল্লাহ বলেন: তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে। তার গলদেশে খেজুর বাকলের রজ্জু রয়েছে। (সূরা লাহাব, আয়াত নং ৪,৫)
লেখক: মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী,আলেম ও গবেষক
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী 

























