
মোঃ মোনাহার মিয়া,
স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার বৈষ্ণবপাড়া এলাকায়
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা তুলে না নেওয়া এবং আপস-মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় জামালপুরের বকশীগঞ্জে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বসতবাড়ির আঙিনায় ঢুকে নৃশংস হামলা চালিয়েছে। গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকায় বকশীগঞ্জ থানাধীন লাউচাপড়া বৈষ্ণবপাড়া এলাকার ৪ নং সাক্ষীর বসতবাড়িতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি কোপ ও পিটুনিতে নারী-পুরুষসহ কয়েকজন ব্যক্তি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে দায়ের করা মামলা জামালপুরের বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার নং-০৩, তারিখ: ০৪/০৮/২০২৪; ধারা: ৭/৯(৪)(খ)/৩০) আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ভুক্তভোগী পরিবার আপসে রাজি না হওয়ায় শত্রুতাবশত ঘটনার দিন ১ নং আসামির নেতৃত্বে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জনের একদল। লোহার দা লাঠি লোহার রড, ও শাবলসহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে বৈষ্ণবপাড়ার ওই বসতবাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
আসামিদের গালিগালাজে বাধা দিলে ৫ নং আসামির প্রত্যক্ষ হুকুমে অন্যান্য আসামিরা মারাত্মক হামলায় লিপ্ত হয়। ২ নং আসামি তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ১ নং সাক্ষীর মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে বারি মেরে মারাত্মক ফোলা জখম করে। পরবর্তীতে ১৪ নং আসামি লাঠি দিয়ে ১ নং সাক্ষীর মাথায় আঘাত করলে সে আত্মরক্ষার্থে বাম হাত বাড়িয়ে দেয়। এতে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়।
একই সময় ৩ নং সাক্ষী এগিয়ে এলে ১৫ নং আসামি রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং ১২ নং আসামি তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ২ ও ৪ নং সাক্ষী বাধা দিতে গেলে ৩ নং ও ৬ নং আসামি রামদা ও ধারালো দা দিয়ে তাদের মাথার খুলি লক্ষ্য করে কোপ মারে। আত্মরক্ষার্থে হাত বাড়িয়ে দিলে কোপ হাত ও গালের বিভিন্ন স্থানে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।
সর্বশেষ অভিযোগকারী মো: শাহিনুর রহমান নিজে এগিয়ে গেলে ১ নং আসামি ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ মারে। তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে দা-এর কোপ তার বাম হাতের তর্জনী আঙুলে লেগে গুরুতর জখম হয়। অন্যান্য আসামিরা ভুক্তভোগীদের এলোপাতাড়ি কিল, ঘুসি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে।
হামলার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে ১, ২ ও ৩ নং সাক্ষীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। ভুক্তভোগী মো: শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
Reporter Name 
























