মো. বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভারতীয় জব্দকৃত গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এতে উপজেলা চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কিছু সময়ের জন্য নিলাম কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে দুই দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় নিলাম সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা ১০টি ভারতীয় গরুর নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিলামে অংশগ্রহণ ও এর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর রৌমারী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, “আমরা নিলামে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলাম। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। কিন্তু এ দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী মারধরের শিকার হন।” তবে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিলামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, “নিলামকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল, আবির, মানিক ও সোনা মিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা এককভাবে এসব নিলামে অংশ নিতেন। এবার জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, একপর্যায়ে নিলামের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে ৩০ শতাংশ ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে সমান ৫০ শতাংশ দাবি করা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে দুই দলের সিনিয়র নেতারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর নিলাম পুনরায় শুরু হলে যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা দর দিয়ে ১০টি গরু কিনে নেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়নি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Reporter Name 


























