
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
সারাদেশে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোবারক হোসেন (২৬) ও নুসরাত ফারিয়া (২০)। তাদের বিরুদ্ধে প্রলোভনে ফেলে অপহরণ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভুক্তভোগীর শনাক্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে কাজীর দেউড়ি মোড়ে যান। সেখানে চা পান করার সময় নুসরাত ফারিয়া পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ছবি ধারণ করা হয় এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করে অভিযুক্তরা। পরে তাকে একটি গলিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে শনিবার মামলা রুজু করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ও নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে একই ধরনের কৌশলে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে মোবারক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি স্মার্টফোন, ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি এবং হাত বাঁধতে ব্যবহৃত একটি রশি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
‘হানি ট্র্যাপ’ কী?
‘হানি ট্র্যাপ’ বলতে এমন একটি প্রতারণামূলক কৌশলকে বোঝায়, যেখানে প্রেম, সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতার প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অথবা ব্যক্তিগত তথ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ আদায় বা ব্ল্যাকমেইল করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কল বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সন্দেহজনক সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 

























