আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।
গত ২৬ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করার কারণে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হাই ও তার লোকজন প্রতিবেশী মধু মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধু মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় মধু মিয়ার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মধু মিয়া (৪৮), আবুল কাশেম (৪২), আব্দুস ছালাম (৩৭), মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৪০), মেয়ে শের আলী (২৮), কাশেম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও ছেলে বিপ্লব (২০) আহত হন।
পরদিন রাতেই নিহত মধু মিয়ার ছোট ভাই আহত আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে একই গ্রামের তরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫), মাসুক মিয়া (২৯), রহিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৭), জাকির মিয়া (২০), ফরিদ মিয়া (৩১) ও মেয়ে শেফালী বেগম (২২)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত ও মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রোববার ভোর সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল হাই ও তার লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মধু মিয়া, আবুল কাশেম, শের আলী, বিপ্লব, সাফিয়া বেগম এবং আব্দুল ছালামসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধু মিয়া, কাশেম মিয়া ও সাফিয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সেখানে মধু মিয়া ও আবুল কাশেম আইসিইউতে ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া মারা যান।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ মধু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরতে র্যাবকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 






















