Dhaka ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আনোয়ারায় এত এত শিল্প-কলকারখানা, তবুও কর্মসংস্থানে কেন পিছিয়ে স্থানীয় মানুষ? কর্ণফুলী ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরাম (একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন) এর কর্তৃক আয়োজিত টি-শার্ট বিতরণ কর্মসূচি ২০২৬ ইং, ২৯ জুলাই ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিদেশি পিস্তল ও গুলি সহ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী গ্রেফতার বীরগঞ্জ পৌর দৈনিক বাজারের দোকানঘরের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর নবীনগরে ১৫০ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী খুলনার রায়ের মহলে অভিযান: বিদেশি রিভলবারসহ টাইগার গ্রুপের সদস্য রবিউল গ্রেপ্তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতবর্ষী লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজারো মূল্যবান বই
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতবর্ষী লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজারো মূল্যবান বই

  • Reporter Name
  • সময়: ০৪:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ২২ Time View

মো. সারোয়ার হোসেন অপু, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত চাকরাইল গ্রামে অবস্থিত প্রায় শতবর্ষী একটি লাইব্রেরি বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এখানে সংরক্ষিত হাজার হাজার মূল্যবান বই, পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক দলিল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৩৬ সালে কবি তালিম হোসেন চৌধুরী তাঁর পৈতৃক গ্রাম চাকরাইলে এ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার বই সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া তুলোট কাগজের পুঁথি, তালপাতায় লেখা গ্রন্থ, হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ এবং নওগাঁর বলিহারের রাজা কৃষ্ণেন্দ্র রায়ের রচিত প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডসহ বহু দুর্লভ গ্রন্থ এই লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।

শুধু স্থানীয় পাঠকই নন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গবেষক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত এই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। স্বল্প খরচে বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার সুযোগ, শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ এবং জ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠাগারে পরিণত করেছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা, উইপোকার আক্রমণ এবং বৃষ্টির পানিতে বহু মূল্যবান বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল ক্যাটালগ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাব, নতুন বই সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকাও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক তুহিন হোসেন বলেন, আধুনিক কম্পিউটার ও ডিজিটাল ক্যাটালগ ব্যবস্থা চালু, নিয়মিত নতুন বই সংগ্রহ, সরকারি ও বেসরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং পাঠক আকৃষ্ট করতে প্রচারণা চালানো জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই শতবর্ষী গ্রন্থাগার এবং এর অমূল্য সংগ্রহ সংরক্ষণ করা কঠিন হবে। তাই দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  রাজবাড়ী জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আনোয়ারায় এত এত শিল্প-কলকারখানা, তবুও কর্মসংস্থানে কেন পিছিয়ে স্থানীয় মানুষ?

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতবর্ষী লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজারো মূল্যবান বই

সময়: ০৪:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মো. সারোয়ার হোসেন অপু, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত চাকরাইল গ্রামে অবস্থিত প্রায় শতবর্ষী একটি লাইব্রেরি বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এখানে সংরক্ষিত হাজার হাজার মূল্যবান বই, পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক দলিল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৩৬ সালে কবি তালিম হোসেন চৌধুরী তাঁর পৈতৃক গ্রাম চাকরাইলে এ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার বই সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া তুলোট কাগজের পুঁথি, তালপাতায় লেখা গ্রন্থ, হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ এবং নওগাঁর বলিহারের রাজা কৃষ্ণেন্দ্র রায়ের রচিত প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডসহ বহু দুর্লভ গ্রন্থ এই লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।

শুধু স্থানীয় পাঠকই নন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গবেষক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত এই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। স্বল্প খরচে বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার সুযোগ, শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ এবং জ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠাগারে পরিণত করেছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা, উইপোকার আক্রমণ এবং বৃষ্টির পানিতে বহু মূল্যবান বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল ক্যাটালগ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাব, নতুন বই সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকাও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক তুহিন হোসেন বলেন, আধুনিক কম্পিউটার ও ডিজিটাল ক্যাটালগ ব্যবস্থা চালু, নিয়মিত নতুন বই সংগ্রহ, সরকারি ও বেসরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং পাঠক আকৃষ্ট করতে প্রচারণা চালানো জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই শতবর্ষী গ্রন্থাগার এবং এর অমূল্য সংগ্রহ সংরক্ষণ করা কঠিন হবে। তাই দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়ন চট্টগ্রাম