Dhaka ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের সাথে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের মতবিনিময় মালগাজীতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছা ও পূজার উপহার ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন ও এভার শাইন ডেন্টাল কেয়ার-এর পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা  বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক রোয়াংছড়িতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ফুলবাড়ীতে জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ চরভদ্রাসনে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল পীরগঞ্জে জামায়াত নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর রাজশাহীতে শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন নরসিংদীর শিবপুরে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ, জব্দ ভেকু মেশিন রাবি শিক্ষার্থী পেল ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ঝুঁকিপূর্ণ, যৌন শোষণ ও পাচারের শিকার শিশুদের আইনী সুরক্ষায় জন্ম নিবন্ধন এখন অপরিহার্য

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪১ Time View

€রাবেয়া সুলতানা, সহ-সম্পাদক || মানবজীবন.কম


বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি শিশুর নাগরিক হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনও অনেক শিশু এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, ফলে তারা প্রয়োজনীয় সেবা ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। যেসব শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই এবং যাদের বয়সের প্রমাণপত্র নেই, তারা প্রান্তিকীকরণ, বৈষম্য, নির্যাতন ও শোষণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে—যার মধ্যে শিশুবিবাহ, শিশুশ্রম এবং মানবপাচার অন্তর্ভুক্ত।

২০২৪ সাল থেকে অপরাজেয়-বাংলাদেশ, দ্য ফ্রিডম ফান্ড-এর সহায়তায়, শিশু যৌন শোষণ ও পাচারের শিকার শিশু এবং বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের (CSEC) নিয়ে কাজ করে আসছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে জন্ম সনদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

 

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, অপরাজেয়-বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন ও জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আওতায় উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং একই সাথে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে সময়মতো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করা যায়। জাতীয় পর্যায়ে, অপরাজেয়-বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন ফি মওকুফের জন্য অ্যাডভোকেসি করছে, বিশেষ করে যৌন পাচারের শিকার শিশু, বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা শিশু (CSEC) এবং তাদের পরিবারের জন্য। পাশাপাশি, কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে অধিকার ও সেবায় প্রবেশাধিকারে এর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে। এসব সেশনে বিশেষভাবে মা-গ্রুপগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত হয়।

 

এছাড়াও, অপরাজেয়-বাংলাদেশ এমন শিশু ও তাদের মায়েদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাদের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই, যাতে তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে পারে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আইনি পরিচয় নিশ্চিত করা, সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ বছরে ৫০০ তরুণ আইনজীবীকে দক্ষ করার লক্ষ্য, শুরু ইন্টার্নশিপের তৃতীয় ব্যাচ

যদিও আইনগতভাবে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে, তবুও মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যেমনঃ
♦ পরোক্ষ ব্যয় (যাতায়াত, সময় এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান)
♦  নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে দূরত্বের কারণে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় সীমিত প্রবেশাধিকার
♦ দারিদ্র্যের কারণে নিবন্ধন সেবায় প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা
♦  বিলম্বিত নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়া
♦  আইনগত বিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পর্কে অস্পষ্টতা
♦  সহায়ক নথিপত্রের (যেমন: পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম সনদ) প্রয়োজনীয়তা, যা বয়স্ক প্রজন্মকে বাদ দেয়
♦  জটিল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিলম্ব
♦  জবাবদিহিতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাব

জন্ম নিবন্ধনের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক কৌশল প্রয়োজন, যেখানে নীতিগত সংস্কার, সেবার মানোন্নয়ন এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা একসাথে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নিম্নোক্ত কাঠামোবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।

পরোক্ষ ব্যয় মোকাবিলা
♦  ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লুকায়িত বা অনানুষ্ঠানিক ব্যয়সহ সম্পূর্ণ ফি মওকুফ প্রবর্তন করা।
♦  যাতায়াত ও সময়জনিত চাপ কমাতে মোবাইল নিবন্ধন সেবা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা।
♦  স্বচ্ছ সার্ভিস চার্টার ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান বন্ধে তদারকি জোরদার করা।

 

প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি
♦  দুর্গম এলাকায় মোবাইল নিবন্ধন ইউনিট এবং নিয়মিত আউটরিচ ক্যাম্প পরিচালনা করা।
♦  কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় সরকার কার্যালয়ের সাথে জন্ম নিবন্ধন সেবা সমন্বয় করা।
♦  সীমিত সংযোগযুক্ত এলাকায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অফলাইন নিবন্ধন টুল ব্যবহার করা।

দারিদ্র্যজনিত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা
♦  জন্ম নিবন্ধনকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির (যেমন: নগদ ভাতা, শিশু ভাতা) সাথে সংযুক্ত করা।
♦  নিম্ন-আয়ের পরিবারকে সময়মতো নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বা শর্তাধীন সহায়তা প্রদান করা।
♦  কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তা ও সহগমন সেবা নিশ্চিত করতে এনজিওদের সাথে সহযোগিতা জোরদার করা।

আরও পড়ুনঃ  ‘রাজনীতি ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিন’, সারজিস-পাটওয়ারীকে ফারুক হাসানের পাল্টা জবাব

বিলম্বিত নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ
♦  বিলম্বিত নিবন্ধনের জন্য সহজ, সময়সীমাবদ্ধ এবং ব্যবহারবান্ধব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিধিমালা সংশোধন করা।
♦  বিকল্প যাচাইকরণ পদ্ধতি (যেমন: কমিউনিটি প্রত্যয়ন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সনদ) চালু করা।
♦  স্পষ্ট, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নির্দেশিকা এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOPs) প্রণয়ন করা।

প্রত্যাশিত ফলাফল হলো সার্বজনীন জন্ম নিবন্ধনকে একটি মৌলিক সরকারি সেবা হিসেবে টেকসই অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করা, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এটি সেবায় প্রবেশাধিকার উন্নত করবে এবং প্রতিবন্ধকতা হ্রাসে আইন ও নীতিগত সংস্কারকে সহায়তা করবে।

এছাড়াও, জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হলে প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচয় আজীবন সুরক্ষা, সেবায় প্রবেশাধিকার এবং অধিকার বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পৃক্ততা আইনি অদৃশ্যতার পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রাবেয়া সুলতানা, সহ-সম্পাদক  মানবজীবন.কম

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের সাথে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের মতবিনিময়

ঝুঁকিপূর্ণ, যৌন শোষণ ও পাচারের শিকার শিশুদের আইনী সুরক্ষায় জন্ম নিবন্ধন এখন অপরিহার্য

সময়: ০৯:০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

€রাবেয়া সুলতানা, সহ-সম্পাদক || মানবজীবন.কম


বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি শিশুর নাগরিক হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনও অনেক শিশু এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, ফলে তারা প্রয়োজনীয় সেবা ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। যেসব শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই এবং যাদের বয়সের প্রমাণপত্র নেই, তারা প্রান্তিকীকরণ, বৈষম্য, নির্যাতন ও শোষণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে—যার মধ্যে শিশুবিবাহ, শিশুশ্রম এবং মানবপাচার অন্তর্ভুক্ত।

২০২৪ সাল থেকে অপরাজেয়-বাংলাদেশ, দ্য ফ্রিডম ফান্ড-এর সহায়তায়, শিশু যৌন শোষণ ও পাচারের শিকার শিশু এবং বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের (CSEC) নিয়ে কাজ করে আসছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে জন্ম সনদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

 

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, অপরাজেয়-বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন ও জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আওতায় উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং একই সাথে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে সময়মতো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করা যায়। জাতীয় পর্যায়ে, অপরাজেয়-বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন ফি মওকুফের জন্য অ্যাডভোকেসি করছে, বিশেষ করে যৌন পাচারের শিকার শিশু, বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা শিশু (CSEC) এবং তাদের পরিবারের জন্য। পাশাপাশি, কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে অধিকার ও সেবায় প্রবেশাধিকারে এর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে। এসব সেশনে বিশেষভাবে মা-গ্রুপগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত হয়।

 

এছাড়াও, অপরাজেয়-বাংলাদেশ এমন শিশু ও তাদের মায়েদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাদের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই, যাতে তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে পারে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আইনি পরিচয় নিশ্চিত করা, সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ  নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব নিশ্চিত করতে নগরীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার

যদিও আইনগতভাবে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে, তবুও মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যেমনঃ
♦ পরোক্ষ ব্যয় (যাতায়াত, সময় এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান)
♦  নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে দূরত্বের কারণে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় সীমিত প্রবেশাধিকার
♦ দারিদ্র্যের কারণে নিবন্ধন সেবায় প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা
♦  বিলম্বিত নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়া
♦  আইনগত বিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পর্কে অস্পষ্টতা
♦  সহায়ক নথিপত্রের (যেমন: পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম সনদ) প্রয়োজনীয়তা, যা বয়স্ক প্রজন্মকে বাদ দেয়
♦  জটিল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিলম্ব
♦  জবাবদিহিতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাব

জন্ম নিবন্ধনের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক কৌশল প্রয়োজন, যেখানে নীতিগত সংস্কার, সেবার মানোন্নয়ন এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা একসাথে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নিম্নোক্ত কাঠামোবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।

পরোক্ষ ব্যয় মোকাবিলা
♦  ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লুকায়িত বা অনানুষ্ঠানিক ব্যয়সহ সম্পূর্ণ ফি মওকুফ প্রবর্তন করা।
♦  যাতায়াত ও সময়জনিত চাপ কমাতে মোবাইল নিবন্ধন সেবা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা।
♦  স্বচ্ছ সার্ভিস চার্টার ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান বন্ধে তদারকি জোরদার করা।

 

প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি
♦  দুর্গম এলাকায় মোবাইল নিবন্ধন ইউনিট এবং নিয়মিত আউটরিচ ক্যাম্প পরিচালনা করা।
♦  কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় সরকার কার্যালয়ের সাথে জন্ম নিবন্ধন সেবা সমন্বয় করা।
♦  সীমিত সংযোগযুক্ত এলাকায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অফলাইন নিবন্ধন টুল ব্যবহার করা।

দারিদ্র্যজনিত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা
♦  জন্ম নিবন্ধনকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির (যেমন: নগদ ভাতা, শিশু ভাতা) সাথে সংযুক্ত করা।
♦  নিম্ন-আয়ের পরিবারকে সময়মতো নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বা শর্তাধীন সহায়তা প্রদান করা।
♦  কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তা ও সহগমন সেবা নিশ্চিত করতে এনজিওদের সাথে সহযোগিতা জোরদার করা।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

বিলম্বিত নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ
♦  বিলম্বিত নিবন্ধনের জন্য সহজ, সময়সীমাবদ্ধ এবং ব্যবহারবান্ধব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিধিমালা সংশোধন করা।
♦  বিকল্প যাচাইকরণ পদ্ধতি (যেমন: কমিউনিটি প্রত্যয়ন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সনদ) চালু করা।
♦  স্পষ্ট, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নির্দেশিকা এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOPs) প্রণয়ন করা।

প্রত্যাশিত ফলাফল হলো সার্বজনীন জন্ম নিবন্ধনকে একটি মৌলিক সরকারি সেবা হিসেবে টেকসই অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করা, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এটি সেবায় প্রবেশাধিকার উন্নত করবে এবং প্রতিবন্ধকতা হ্রাসে আইন ও নীতিগত সংস্কারকে সহায়তা করবে।

এছাড়াও, জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হলে প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচয় আজীবন সুরক্ষা, সেবায় প্রবেশাধিকার এবং অধিকার বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পৃক্ততা আইনি অদৃশ্যতার পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রাবেয়া সুলতানা, সহ-সম্পাদক  মানবজীবন.কম